সুবর্ণ বিশ্বাস,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:
কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের এলাঙ্গী রোডে সড়কের ওপর গাছ ফেলে ব্যারিকেড দিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা তিনটি যাত্রীবাহী বাসে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আজ ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এতে পূর্বাশা পরিবহন, গোল্ডেন লাইন ও রয়েল পরিবহনের যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে সংবদ্ধ ডাকাত দল।
গাছ ফেলে পথরোধ ও হামলায় আতঙ্ক
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো কালীগঞ্জ পার হয়ে কোটচাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিল। ভোর সাড়ে চারটার দিকে কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের এলাঙ্গী রোড এলাকায় পৌঁছালে চালকরা দেখতে পান সড়কের ওপর বড় গাছ কেটে ব্যারিকেড তৈরি করে রাখা হয়েছে। বাসগুলো থামামাত্রই মুখরোশ ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ১২ থেকে ১৫ জনের একটি ডাকাত দল বাসগুলোর ওপর হামলা চালায়।
ডাকাতরা একে একে পূর্বাশা, গোল্ডেন লাইন ও রয়েল পরিবহনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা অস্ত্রের মুখে চালক, হেলপার ও যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলে। বাসের ভেতর আতঙ্ক সৃষ্টি করতে যাত্রীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। মাত্র ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে তিনটি বাসের যাত্রীদের কাছে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণের চেইন ও অন্যান্য দামি জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে ডাকাত দলটি দ্রুত পার্শ্ববর্তী অন্ধকার এলাকায় পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও ক্ষোভ
ভুক্তভোগী এক বাসযাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হঠাৎ করেই বাসের সামনে গাছ ফেলে গাড়ি থামানো হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একদল ডাকাত অস্ত্র হাতে বাসে উঠে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। যাত্রীদের চিৎকারের তোয়াক্কা না করে মুহূর্তের মধ্যেই সবার মোবাইল, নগদ টাকা ও নারীদের গহনা কেড়ে নেয় তারা।”
আরেক পরিবহনের এক চালক জানান, “সড়কের মোড়ে গাছ ফেলা দেখে গাড়ি ব্রেক করতে বাধ্য হই। ব্রেক করতেই দুপাশ থেকে অস্ত্র হাতে ডাকাতরা এসে আমাকে ও হেলপারকে মারধর শুরু করে এবং চাবি কেড়ে নেয়।”
পুলিশের পদক্ষেপ ও যান চলাচল স্বাভাবিক
ঘটনার পর পর স্থানীদের সহায়তায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়কের ওপর থেকে গাছ সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মহাসড়কে এই সংবদ্ধ ডাকাত দলকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে ইতোমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। মহাসড়কে নৈশকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।