শাহিনুর আক্তার (নরসিংদী) প্রতিনিধি :
আসন্ন বেলাবো উপজেলার আমলাবো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের গণসংযোগ ও প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো ইউনিয়ন। তবে সব আলোচনা ও হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে থেকে বর্তমানে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে তরুণ সমাজসেবক ও আমলাবো ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ খলিল উল্লাহ তপন-এর নাম।
এলাকার বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও চায়ের আড্ডায় এখন তাকে ঘিরেই চলছে নানা আলোচনা। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন খলিল উল্লাহ তপন। দলের দুঃসময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন সময় হয়রানি ও কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে। ত্যাগ-তিতিক্ষা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় আদর্শ ও নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি তপন দীর্ঘদিন ধরে আমলাবো ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। করোনাকালীন সংকট, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপদে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রবীণ ও মুরব্বিদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ তাকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
এলাকার কয়েকজন প্রবীণ নাগরিক জানান, আমলাবো ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের সংস্কার, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে একজন সৎ, যোগ্য ও সাহসী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাদের মতে, খলিল উল্লাহ তপনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড তাকে একজন সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রেখেছে।
রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অনেকের ভাষ্য, বিএনপির কঠিন সময়ে মাঠে থেকে দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা তপনের রাজনৈতিক পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় জেল-জুলুম ও নানা চাপের মুখোমুখি হলেও তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন বলে দাবি স্থানীয় সমর্থকদের।
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও প্রার্থিতার বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ খলিল উল্লাহ তপন বলেন, “আমি পদের লোভে নয়, বরং আমলাবো ইউনিয়নের অবহেলিত ও মেহনতি মানুষের সেবা করতেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে থেকে মানুষের সুখ-দুঃখ দেখেছি এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ইউনিয়নবাসী যদি আমাকে সুযোগ দেন, তাহলে আমলাবো ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব, যেখানে সাধারণ মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা পাবে।”
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, মোঃ খলিল উল্লাহ তপনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও রাজনৈতিক আলোচনা ততই বাড়ছে। তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক ভূমিকা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড আসন্ন নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের আলোচনার অন্যতম বিষয়।