সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:
রাঙামাটির বিলাইছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ পালন করেছে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রবিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় দিবসটি উপলক্ষে পল্টন ঘাট থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম ফকিরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি মো. জাফর আহাম্মদ।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক বারেক খাঁ, সহসভাপতি নেইলাই পাংখোয়া এবং যুগ্ম সম্পাদক জয়সিন্ধু চাকমা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনি।
এছাড়াও বক্তব্য দেন কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কবির হোসেন, বিলাইছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী হায়দার, ফারুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খুশি বাবু তঞ্চঙ্গ্যা, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী দিলু আরা বেগম, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ভিএল পাংখোয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আল মামুন, ওলামা দলের সভাপতি মো. হোসাইন, জাসাসের সভাপতি মো. জাকির হোসেন, ছাত্রদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ২ নম্বর কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. মনির হোসেন এবং তাঁতী দলের সভাপতি মো. আবুল কালাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফারুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি যতীন তঞ্চঙ্গ্যা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইমাম হাসান সিকদার, চাথোয়াই রোয়াজা, সমূল্য হেডম্যান, শান্তি রায় চাকমা, মো. আলমগীর, মো. হারুন, অলি আহমেদ, আকবর হোসেন, শফিকুল ইসলাম, মো. মোবারক হোসেন, ববিতা চাকমা, ডালিয়া বড়ুয়া, নিত্যলাল তঞ্চঙ্গ্যা, মো. ইসহাক, ফাক্কো চাকমা ও জনি মার্মাসহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা দেশ ও জাতির কল্যাণ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে পিয়ন থেকে শুরু করে কর্মকর্তা পর্যায় পর্যন্ত দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তরে দাপ্তরিক কাজ ও সভা-সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন বক্তারা।
তাঁরা আরও বলেন, বিলাইছড়িতে বিভিন্ন সময় সুবিধাভোগী ও দালালচক্রের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের কাছে তথ্য ও তালিকা রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। তাঁর নেতৃত্বে দেশকে রক্ষার যে ভূমিকা বিএনপি তুলে ধরে, সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানেও গণতন্ত্র ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তাঁরা।