নিজস্ব প্রতিবেদক: মোঃ আজিজুর রহমান
“রক্তদান ও আর্তমানবতার সেবায় ইনসানিয়াত লাইফ ব্লাড ফাউন্ডেশন” এবং সহযোগী গণমাধ্যম দৈনিক মুক্তি সমাচার ডিএমএস টিভি স্লোগান “সত্যের সন্ধানে দৃষ্টি ডিএমএস”—এই মূল মন্ত্রকে সামনে রেখে আত্মপ্রকাশ করেছে একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও আন্তর্জাতিক মানের মানবিক ও মানবাধিকার সংগঠন ‘ইনসানিয়াত লাইফ ব্লাড ফাউন্ডেশন’। গত ২০২৩ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য বজায় রেখে দেশপ্রেম, নিঃস্বার্থ সেবা এবং আর্তমানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এই সংগঠন।
নেতৃত্বের কাঠামো ও স্থায়ী সদস্যপদ
সংগঠনের মূল ভিত্তি হলো ১০১ জন নিবেদিতপ্রাণ প্রতিষ্ঠাতা কর্মী, যারা মূলত দৈনিক মুক্তি সমাচার ও ডিএমএস টিভি পরিবারের দীর্ঘমেয়াদী সদস্য। প্রতিষ্ঠাতাগণ আজীবন সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন এবং দায়িত্ব ও ক্যাটাগরি অনুযায়ী তাঁদের জন্য বিশেষ সম্মানীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই ১০১ জন সদস্যের মধ্য থেকেই যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা এবং পৌরসভা কমিটি গঠন করা হবে।
সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ১০১ জন স্থায়ী সদস্যের কেউ মারা গেলে কিংবা স্থায়ীভাবে কর্মক্ষম হয়ে পড়লে, তাঁর যোগ্য উত্তরাধিকারী সংগঠনের নীতিমালা ও অনুমোদন সাপেক্ষে সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারবেন। সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে রয়েছে—সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী, দেশপ্রেমিক ও প্রকৃত মানুষ হওয়া এবং মানবতার স্বার্থে রক্তদান ও আর্তসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার দৃঢ় মানসিকতা। রাষ্ট্রবিরোধী, সমাজবিরোধী বা কোনো ধরনের ধর্মবিদ্বেষী ব্যক্তি এই সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না।
প্রবাসীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ
জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি প্রবাসীদের নাড়ির টান এবং অধিকার রক্ষায় এই প্ল্যাটফর্ম জোরালো ভূমিকা পালন করবে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও প্রবাসীদের নানাবিধ বঞ্চনা ও নির্যাতন রোধে আইনি সহায়তা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করবে সংগঠনটি। এছাড়া প্রবাসফেরত ক্ষতিগ্রস্ত বা অসুস্থ প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রবাসে কোনো কর্মী মারা গেলে কিংবা বিপদে পড়লে, দেশে থাকা তাঁর পরিবারকে সান্ত্বনার পাশাপাশি আইনি ও মানবিক সহায়তা প্রদানেও ফাউন্ডেশন সবসময় পাশে থাকবে।
নেটওয়ার্ক ও সাংগঠনিক বিস্তার
সংগঠনটির কার্যক্রমকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে দেশের সকল স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় শক্তিশালী ছাত্র-যুব ইউনিট গঠন করা হবে। পাশাপাশি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক বা প্রবাস শাখা খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সমাজের বিভিন্ন মহলের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রেসক্লাব, সাংবাদিক সংস্থা এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনের সাথে নিবিড় সমন্বয় রাখবে সংগঠনটি। এছাড়া বড় ধরনের সামাজিক বা মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সময় সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অবগত করে তাদের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে এই ফাউন্ডেশন।
মূল কার্যক্রম ও লক্ষ্য
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—
জীবন রক্ষা: মুমূর্ষু রোগীর জরুরি রক্তের চাহিদা পূরণ, নতুন রক্তদাতা তৈরি এবং সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি।
মানবাধিকার সুরক্ষা: নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান এবং আইনি সহায়তা প্রদান।
দুর্যোগ মোকাবিলা: বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, মহামারী কিংবা যেকোনো জাতীয় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কাজ পরিচালনা এবং পুনর্বাসনে সর্বাত্মক সহযোগিতা।
সামাজিক উন্নয়ন: এতিম, অসহায়, দরিদ্র, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী এবং সুবিধাবঞ্চিত প্রবাসীর পরিবারের কল্যাণে বহুমুখী উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন।