সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রত্যাশায় গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন
হা. মাও. ডা. হাফিজুল ইসলাম লস্কর
”নেতৃত্ব বদলালে, উন্নয়নের পথও বদলায়” এটি কেবল একটি প্রচলিত বাণী নয়, বরং একটি সমাজ ও অঞ্চলের সামগ্রিক পরিবর্তনের মূলমন্ত্র। স্থানীয় সরকারের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ অর্থনীতি, সামাজিক শান্তি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি ইউনিয়নের রূপরেখা কেমন হবে, তা বহুলাংশে নির্ভর করে এর নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি, সততা এবং দূরদর্শিতার ওপর।
বর্তমানে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ২নং গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকের মাঝে এমনই এক পরিবর্তন ও আকাঙ্ক্ষার সুর ধ্বনিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় নাগরিকরা অনুধাবন করেছেন যে, একটি ইউনিয়নকে আধুনিক, নিরাপদ এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে প্রয়োজন সৎ, যোগ্য, দূরদর্শী ও জনবান্ধব নেতৃত্ব। আর সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে উদীয়মান সমাজসেবক মওদুদ হোসেন চৌধুরী সুমন।
নেতৃত্ব হুট করে গড়ে ওঠে না; এটি প্রকাশ পায় মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতায়। মওদুদ হোসেন চৌধুরী সুমন অতীতে যেভাবে নিঃস্বার্থভাবে স্থানীয় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বর্তমানেও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে তাঁর সেই সেবামূলক সম্পর্ক বিদ্যমান। শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা এলাকাবাসীকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। প্রশাসনিক চেয়ার পাওয়ার আগেই যিনি সমাজের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন, তাঁর হাতেই একটি ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ নিরাপদ, এমনটাই বিশ্বাস স্থানীয় সচেতন মহলের।
গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ আজ কেবল ঐতিহ্যগত কোনো প্রতিনিধি চায় না; তারা চায় একটি উন্নত ও ডিজিটাল সুবিধার আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ। মওদুদ হোসেন চৌধুরী সুমনের জনমুখী চিন্তা ও স্থানীয়দের প্রত্যাশাকে ঘিরে একটি মডেল ইউনিয়নের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ফুটে উঠেছে-
১/ অনুন্নত ও জরাজীর্ণ রাস্তাঘাটের সংস্কার করে ইউনিয়নজুড়ে উন্নত ও টেকসই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষা করা। ২/ স্বাস্থ্যসেবা যেন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায় সে ব্যবস্থা করা এবং ইউনিয়নে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ। ৩/ আধুনিক টেলিযোগাযোগ, নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল সেবা প্রদান এবং নাগরিকদের দীর্ঘদিনের দাবি, একটি সরকারি ভূমি অফিস স্থাপনের কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া। ৪/ গোলাপগঞ্জ প্রবাসীবহুল অঞ্চল হওয়ায় প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের জন্য দ্রুত, হয়রানিমুক্ত এবং আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ সেবা নিশ্চিত করা। ৫/ তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদক ও নেশার বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং একটি সুস্থ-সুন্দর সমাজ উপহার দেওয়া। ৬/ ইউনিয়নের প্রতিটি প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা।
ইউনিয়নবাসী কেবল একজন নামমাত্র চেয়ারম্যান চায় না; ইউনিয়নবাসী চায় একজন দায়িত্বশীল, সৎ ও কর্মঠ নেতৃত্ব, যিনি সাধারণ মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বপ্নের বাস্তব রূপায়ন ঘটাবেন। যোগ্য নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। যোগ্য ব্যক্তি সঠিক স্থানে বসলেই কেবল ইউনিয়নের সম্ভাবনাগুলো বাস্তবে রূপ নেয়।
গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সচেতন জনগণের প্রত্যাশা, মওদুদ হোসেন চৌধুরী সুমনকে আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়যুক্ত করে এই ইউনিয়নকে একটি মডেল, আধুনিক ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা। সততা, যোগ্যতা ও জনবান্ধব মানসিকতার যে অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পা রাখবে এক উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে।
লেখক,
যুগ্ন আহবায়ক-
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামাদল সিলেট মহানগর।