গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধি
মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সিরাজের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। ২০২০ সালের এই দিনে তিনি ৭৭ বছর বয়সে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
দিবসটি উপলক্ষে শাজাহান সিরাজ ফাউন্ডেশন, শাজাহান সিরাজ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এবং কালিহাতীর শাজাহান সিরাজ কলেজের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। সকালে ঢাকার বনানী কবরস্থানে মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করা হয়। এছাড়া টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কোরআনখানি, দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
কালিহাতীর শাজাহান সিরাজ কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও মরহুমের কন্যা ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিন। প্রধান আলোচক ছিলেন মরহুমের সহধর্মিণী রাবেয়া সিরাজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন বলেন, শাজাহান সিরাজ নিজেই একটি ইতিহাস। স্বাধীনতার প্রাক্কালে পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে তার আপসহীন ভূমিকা এবং স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে তার অবদান চিরস্মরণীয়।
ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, ‘আমার পিতা আজীবন গণমানুষের মুক্তি ও শান্তির জন্য কাজ করে গেছেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নারীর অগ্রযাত্রায় তার অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
উল্লেখ্য, ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হন।