মোঃজাহাঙ্গীর আলম ঈশ্বরদী(পাবনা) প্রতিনিধি:
ধানমন্ডি ৩২–এর বাড়ি ভাঙচুর, শেখ হাসিনাসহ নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও হরতালের সমর্থনে পাবনার ঈশ্বরদীতে দফায় দফায় প্রকাশ্যে মিছিল করেছেন আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। গত মঙ্গলবার প্রকাশ্যে মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসেছেন প্রশাসন সহ স্থানীয় বিএনপি।
প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল ও নৈরাজ্য সৃষ্টির শঙ্কার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে উপজেলা ও পৌর বিএনপির ব্যানারে এক বিক্ষোভ মিছিল করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঈশ্বরদী শহরের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় এসব মিছিল বের করেন। সর্বশেষ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময়ের নেতৃত্বে একটি মিছিলে সরকারের বিরুদ্ধে নানারকম বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে পৌর শহরের খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক পদক্ষিন করে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে সংক্ষিপ্ত পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এর আগে নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এদিকে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন জনির সঞ্চালনায় আয়োজিত বিক্ষোভ ও পথসভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সেন্টু সরদার, পৌর বিএনপির আহবায়ক ইসলাম হোসেন জুয়েল, পৌর যুবদলের সাবেক আহবায়ক জাকির হোসেন জুয়েল ও উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত আহবায়ক বিটু মুস্তাফিজ।
এসময় বক্তব্যে তারা বলেন, প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন বার বার মিছিল নৈরাজ্য সৃষ্টির শঙ্কা তৈরি করছে। আওয়ামীলীগের প্রতি জামায়াত ও প্রশাসনের যে উদার মনোভাব দেখা যাচ্ছে তাতে স্পষ্ট “আওয়ামিলীগ ও জামায়াত একে অপরের ভাইরা ভাই”। যে আওয়ামীলীগ ১৭ বছর ধরে দেশে ফ্যাসিজম কায়েম করে শত শত মানুষকে হত্যা করে আজ পলাতক তাদের পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিএনপি সরকার যখন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য রাত-দিন
এক করে কাজ করছে তখন প্রশাসন সহ জামায়াতের একটি অংশ আওয়ামীলীগ কে পূনর্বাসন করে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বলে দিচ্ছি যেখানে যে অবস্থায় আছেন সেখানে সে অবস্থায় থাকেন, নইলে রাজপথে আপনাদের কঠিন জবাব দেওয়া হবে।
বক্তব্যে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, প্রশাসন আওয়ামীলীগ থেকে টাকা খেয়ে তাদের নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন এবং মিছিল করার সুযোগ করে দিচ্ছেন যার সুনির্দিষ্ট প্রমান আমাদের কাছে রয়েছে। প্রশাসনের বেশিরভাগ কর্মকর্তা আওয়ামী সরকারের নিয়োগকৃত তাই তারা দেশপ্রেম ভুলে আওয়ামী প্রেমী ভাব একটু বেশিই দেখাচ্ছে। তাই বলছি এখনও সময় আছে ঈশ্বরদী সহ সারাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে এসব আওয়ামীলীগকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়ান।
ঈশ্বরদী থানার ওসি মোঃ আশাদুর রহমান বলেন, রাতের আঁধারে নির্জন এলাকায় ছাত্রলীগ ছটিকা মিছিল করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। প্রকাশ্যে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের কোনভাবেই মিছিল করার সুযোগ নেই।