সুবর্ণ বিশ্বাস,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি :
আজ ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার। শ্রীকৃষ্ণের আহ্লাদিনী শক্তি, ভক্তিকুল শিরোমণি শ্রীমতি রাধারানীর শুভ আবির্ভাব তিথি ‘রাধা অষ্টমী’। ভাদ্র মাসের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে জগতের কল্যাণ ও নিস্বার্থ প্রেমের বার্তা ছড়াতে ধরাধামে আগমন ঘটেছিল প্রেমময়ী রাধারানীর। শনিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন মন্দির, আশ্রম ও ভক্তিমণ্ডপে ভক্তি, ভালোবাসা ও আনন্দঘন পরিবেশে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে।
সনাতন ধর্ম ও বৈষ্ণব দর্শনে শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণ অভিন্ন সত্তা। শ্রীকৃষ্ণ যদি হন পরম ঈশ্বর, তবে রাধারানী তাঁরই আনন্দ শক্তি বা হ্লাদিনী শক্তি। রাধা অষ্টমী তাই কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং নিখাদ আত্মনিবেদন ও পবিত্র প্রেমের এক মহান উৎসব। ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরাধার করুণা ব্যতিরেকে শ্রীকৃষ্ণের সান্নিধ্য লাভ সম্ভব নয়। তাই এই বিশেষ দিনে সাধক ও অনুরাগীরা পরম নিষ্ঠায় রাধারানীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
শনিবার ব্রহ্মমুহূর্ত থেকেই মন্দিরগুলোতে শুরু হয় বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও বিশেষ পূজার্চনা। পঞ্চামৃত, সুবাসিত জল ও সহস্রধারায় শ্রীশ্রী রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহে মহাঅভিষেক সম্পন্ন করা হয়। এরপর নানা রঙ্গের মনোরম বসন এবং দেশি-বিদেশি পুষ্পের সুসজ্জিত সাজে রূপায়িত করা হয় বিগ্রহদ্বয়কে। সকাল থেকেই মন্দিরপ্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র ও ভক্তিমূলক সংকীর্তনে।
দুপুরবেলা রাধারানীর উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয় বিশেষ ভোগ ও ক্ষীর-মিষ্টান্ন। পূজা শেষে সমবেত ভক্তদের মাঝে বিতরণ করা হয় মহাপ্রসাদ। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, রাধা অষ্টমীর দিন পুরো দিন উপবাস থেকে শ্রীরাধার নাম জপ করলে জীবনের সব কলুষতা দূর হয় এবং মনে পরম শান্তি বিরাজ করে।
আজকের এই পুণ্য তিথি মানুষকে শেখায় কীভাবে অহংকার ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করে ঈশ্বর এবং জগতের সকল জীবের প্রতি নিস্বার্থ ভালোবাসায় নিজেকে সমর্পণ করতে হয়। প্রেম ও ভক্তির মঙ্গলালোকে ভরে উঠুক সবার জীবন—এই দোলাতেই শেষ হলো রাধা অষ্টমীর পুণ্যোৎসব।