সুবর্ণ বিশ্বাস
ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহে সাংবাদিক শারমিন আরা এবং তাঁর শিশুকন্যার ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন নারী সাংবাদিক ও তাঁর অবুঝ সন্তানের ওপর এমন নৃশংস আক্রমণের পর অপরাধীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ায় নতুন করে বাধা সৃষ্টি ও নাটকীয়তার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উন্মোচনে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ফুটেজ হস্তান্তরে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন। কিছুক্ষণ আগেও যেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডা. মুস্তাফিজুর রহমান সিসিটিভি ফুটেজ দেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করেছিলেন, সেখানে হঠাৎ করেই ফুটেজ প্রদানে গড়িমসি প্রমাণ লোপাটের জঘন্য চেষ্টার দিকেই ইঙ্গিত করে।
এই হামলার নেপথ্যে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের ডাক্তার মুস্তাফিজুর রহমানের কোনো পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—তা নিয়ে এখন সর্বমহলে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই তালবাহানা ডাক্তার মুস্তাফিজুরকে আড়াল করার কোনো চেষ্টা কি না, তা নিয়ে উঠেছে তীব্র গুঞ্জন।
প্রভাবশালীদের এমন অপকৌশল ও আড়াল করার চেষ্টার মুখে সত্য অনুসন্ধানে রাজপথে ও গণমাধ্যমে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন প্রতিবাদী সাংবাদিক জয়। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে তিনি অবিলম্বে ঘটনার সময়ের সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ জনসম্মুখে প্রকাশ এবং ডা. মুস্তাফিজুর রহমানসহ হামলায় জড়িত প্রতিটি আসামিকে চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
নারী সাংবাদিক ও তাঁর সন্তানের ওপর হামলার ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে প্রমাণ লুকানোর এই চেষ্টার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পুলিশি তদন্ত এখন সময়ের দাবি। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।