সুবর্ণ বিশ্বাস,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধ :
শিক্ষার্থীদের ভেতর সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, মেধার চর্চা এবং আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ‘ভক্তিবেদান্ত মেগা কনটেস্ট–২০২৬’। ‘জাগ্রত ছাত্র সমাজ’-এর উদ্যোগে এবং ঢাকা স্বামীবাগ আশ্রমের সার্বিক পরিচালনায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় এবার যুক্ত হয়েছে হাজারো শিক্ষার্থী। “জ্ঞান, মেধা ও ভক্তি—ভক্তির আলোয় আলোকিত হোক নতুন প্রজন্ম” slogan-কে সামনে রেখে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
প্রতিযোগিতার মূল আকর্ষণ ও বর্তমান পর্যায়
বর্তমানে প্রতিযোগিতার বাছাই পর্ব (জেলা পর্যায়) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ছোটদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে এই পর্বের ইভেন্টগুলো:
ছবিতে রং (জেলা পর্যায়): খুদে শিক্ষার্থীদের জন্য রঙিন তুলির স্পর্শে নিজেদের আঁকার দক্ষতা ফুটিয়ে তোলার চমৎকার এক সুযোগ।
জ্ঞান ও মেধা যাচাই: সনাতন সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক দর্শন এবং সাধারণ জ্ঞানের সমন্বয়ে প্রস্তুত প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়ন।
ভক্তি ও চর্চা: কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, চরিত্র গঠন ও অনুশাসনের শিক্ষা প্রদান।
উদ্দেশ্য ও আয়োজকদের বার্তা
আয়োজক সংস্থা জাগ্রত ছাত্র সমাজ ও স্বামীবাগ আশ্রম কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে কেবল একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে এবং তাদের চরিত্র গঠনে আধ্যাত্মিক চর্চার প্রয়োজন অপরিসীম।
স্বামীবাগ আশ্রমের প্রতিনিধিরা জানান, “আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের হৃদয়ে যদি সঠিক মূল্যবোধ ও ভক্তির বীজ রোপণ করা যায়, তবেই একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠিত হবে। এই কনটেস্টের লক্ষ্য শিশুদের শুধু প্রতিযোগিতায় জয়ী করা নয়, বরং তাদের ভেতরের সৎ গুণাবলীকে জাগিয়ে তোলা।”
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগ্রহ
জেলা পর্যায়ের এই বাছাই পর্বকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রগুলোতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ছবি আঁকা আর সাধারণ জ্ঞান চর্চার এই মেলবন্ধনে মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রাঙ্গণ। জেলা পর্যায় থেকে চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণদের জন্য পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জমকালো পুরস্কার ও সনদের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
পরম করুণাময় শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় ও ভক্তবৃন্দের সহযোগিতায় এই অনন্য আয়োজন নতুন প্রজন্মকে সুমার্গ প্রদর্শনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।