September 20, 2026, 4:39 pm
শিরোনাম:
আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের এফএনএফ পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে ভয়াবহ আ গু ন । দফায় দফায় সিলিন্ডার বিস্পোরণের শব্দ। শৈলকুপায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের মতবিনিময় সভা এক প্লেট ভাত বনাম একটি তাজা প্রাণ: খুলনায় মানবিক অবক্ষয়ের চরম রূপ জমিজমা বিরোধ নিয়ে পরিকল্পিত হামলায় কামাল মাস্টার আহত। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত ক্যাম্পাস গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান — ভাইস-চ্যান্সেলর, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয় শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে লেদা ক্যাম্পে যুব সংলাপ কালিগঞ্জে ২ বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ১ ইউপি সদস্য সহ ৩ নারীর মৃত্য নেত্রকোনায় ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় নাীরকে হত্যার হুমকি প্রধান শিক্ষকের, থানায় অভিযোগ  সুপরিচিত কবি-সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সম্পাদিকা, ছড়াকার ও কণ্ঠশিল্পী *মাধুরী ব্যানার্জীর* লেখা অণুগল্প : *অদ্ভূত শূন্যতা* নেত্রকোনায় জমি দখলের পাঁয়তারার প্রতিবাদে মানববন্ধন
নোটিশ:
দৈনিক মুক্তি সমাচার ও ডিএমএস টিভি (DMS TV) ​”সত্যের সন্ধানে দৃষ্টি — ডি.এম.এস.” এবং ইনসানিয়াত লাইফ ব্লাড ফাউন্ডেশন ​”মানবতার সেবায় রক্তদান, বাঁচবে অকাল প্রাণ” (একটি অরাজনৈতিক ও সম্পূর্ণ মানবিক সংগঠন) ​পরিচালনা পর্ষদ: ​ইঞ্জিনিয়ার- মোঃ আল-আমিন মোল্যা, সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা- সভাপতি ।।। ​মোঃ মাসুদ রানা সুমন, প্রকাশক ও প্রতিষ্ঠাতা- সাধারণ সম্পাদক ।।। ​মোঃ আব্দুর রহিম সবুজ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা- সিনিয়র সহ সভাপতি ।।। কর্তৃপক্ষ’র নোটিশ ব্যতীত কোনো ধরনের লেনদেন করবেন না; যদি করেন- কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেনা । ​যোগাযোগের তথ্য ও লিঙ্কসমূহ: ​অনলাইন আবেদন ফরম: https://forms.gle/p9ZvVivX35GsaeoAA, ওয়েবসাইট ভিজিট করুন: www.muktisamachar.com, ​ই-মেইল: dailymuktisamachar@gmail.com, ​সরাসরি যোগাযোগ: (মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ): (প্রকাশক)- ​📞 +৮৮০১৮২৮-৭৯২৭৫৫, (সম্পাদক)- 📞 +৮৮০ ৯৬৩৮-৭৫১৮১০, ​প্রধান কার্যালয়: ইস্টার্ন হাউজিং, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬ ।।। ​যে-কোনো সংবাদ, বিজ্ঞাপন বা তথ্যের জন্য আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন ।৷ ​”দুই মাসেই সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে—প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।”

সুপরিচিত কবি-সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, ছড়াকার, ঔপন্যাসিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প: নিমন্ত্রণ বিহীন অতিথি

Reporter Name

নিমন্ত্রণ বিহীন

অতিথি-মাধুরী ব্যানার্জী

 

বাড়িটা আজ আলোয় ঝলমল করছে। উঠোনজুড়ে রঙিন আলপনা, দরজায় ফুলের মালা, রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে নানা পদের সুগন্ধ। বহু বছর পর বড় করে মেয়ের বিয়ে দিচ্ছেন অমলবাবু।

সকাল থেকেই আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা। কে কোথায় বসবে, কে কখন খাবে—সবকিছুর হিসেব যেন নিখুঁত।

হঠাৎ দুপুরের দিকে গেটের সামনে এসে দাঁড়ালেন এক বৃদ্ধ।

পরনে ধুতি-পাঞ্জাবি, হাতে পুরোনো একটি কাপড়ের ব্যাগ। মুখে ক্লান্তির ছাপ, অথচ চোখে অদ্ভুত এক মায়া।

দারোয়ান এগিয়ে এসে বলল, —“কাকে চান?”

বৃদ্ধ একটু ইতস্তত করে বললেন, —“অমলকে একবার ডাকবে বাবা?”

দারোয়ান অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, —“আপনার নিমন্ত্রণপত্র আছে?”

বৃদ্ধ মৃদু হেসে মাথা নাড়লেন।

—“না, নেই।”

—“তাহলে ভেতরে যাওয়া যাবে না।”

বৃদ্ধ কিছুক্ষণ গেটের দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, —“ঠিক আছে। শুধু বলো, রঘু এসেছে।”

নামটা শুনে দারোয়ান ভেতরে খবর দিল।

অমলবাবু ছুটে এলেন।

গেটের কাছে দাঁড়ানো মানুষটিকে দেখে তিনি যেন পাথর হয়ে গেলেন।

—“রঘুদা!”

পরক্ষণেই ছুটে গিয়ে বৃদ্ধের পা জড়িয়ে ধরলেন।

চারপাশের লোকজন অবাক।

রঘুদা অমলকে তুলে নিয়ে বললেন, —“কী রে, এত বড় হয়ে গেছিস! চিনতেই পারলাম না।”

অমলের চোখে তখন জল।

“রঘুদা” ছিলেন তাঁদের গ্রামের পুরোনো চায়ের দোকানের মালিক। অমলের বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারে অভাব নেমে এসেছিল। স্কুলের ফি দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। সেই সময় রঘুদাই নিজের দোকানের সামান্য আয় থেকে অমলের পড়াশোনার খরচ দিতেন।

অমল একদিন শহরে চাকরি পেয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যায়।

তারপর জীবন এগিয়েছে। বাড়ি হয়েছে, গাড়ি হয়েছে, সম্মান হয়েছে—কিন্তু সেই ব্যস্ত জীবনে রঘুদার কথা কোথাও যেন হারিয়ে গিয়েছিল।

বিয়ের নিমন্ত্রণের তালিকায়ও তাঁর নাম ওঠেনি।

রঘুদা বললেন, —“তোর মেয়ের বিয়ে শুনে চলে এলাম। ভাবলাম, নিজের ছেলের মেয়ের বিয়েতে কি আর নিমন্ত্রণ লাগে?”

অমল মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।

তারপর হঠাৎ মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সবাইকে বললেন,

—“আজকের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি এসেছেন নিমন্ত্রণ ছাড়াই। কিন্তু সত্যি বলতে কী, এই মানুষটির ঋণ শোধ করার মতো কোনো নিমন্ত্রণপত্র পৃথিবীতে ছাপা হয়নি।”

সবাই নীরব।

অমল রঘুদার হাত ধরে মঞ্চে নিয়ে গেলেন।

মেয়ের মাথায় হাত রেখে রঘুদা বললেন, —“সুখী হোস মা। তোর বাবাকে মানুষ হতে দেখেছি। আজ তার মেয়েকে নতুন জীবনে পা দিতে দেখে মনে হচ্ছে, আমার জীবনের কষ্টগুলো সার্থক হয়েছে।”

কথাটা শেষ করতে পারলেন না তিনি।

অমল তাঁর হাত শক্ত করে ধরে বললেন, —“রঘুদা, আজ থেকে আপনি আমার বাড়ির অতিথি নন। আপনি এই বাড়ির একজন মানুষ।”

রঘুদা মৃদু হেসে বললেন, —“তাহলে আজ থেকে আর নিমন্ত্রণের অপেক্ষা করতে হবে না তো?”

অমলের চোখ বেয়ে জল নেমে এল।

—“না রঘুদা। কিছু মানুষকে নিমন্ত্রণ করতে হয় না। তারা নিজেরাই আমাদের জীবনের দরজায় এসে মনে করিয়ে দেয়—কৃতজ্ঞতার কোনো ঠিকানা নেই, কোনো নিমন্ত্রণপত্রও নেই।”

সেদিন বিয়ের ভোজে সবচেয়ে সম্মানের আসনটি ছিল সেই নিমন্ত্রণ বিহীন অতিথির জন্য।এ



ফেসবুকে আমরা