মোঃ রানা উপজেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ সদর
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ৫ নম্বর কাপাশাটিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবারের দাবি, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরাফত দৌলা ঝন্টু এবং তার ছোট ভাই তুষার আলীর প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তারা এই ঘটনাকে ‘নব্য জামায়াত-আওয়ামী লীগের’ সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নিহতের পরিবারের দাবি:
নিহত আবুল কাশেমের ছেলে মেহেদী হাসান ও পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, বেশ কিছুদিন আগে কুল্যাগাছা বাজারে চেয়ারম্যান ঝন্টু ও তার ভাই তুষারসহ মামলার আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের ভীতি প্রদর্শন করে। সেই সময় চেয়ারম্যান সরাসরি আবুল কাশেমকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলেও জানান মেহেদী হাসান।
তারই ধারাবাহিকতায়, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ফেসবুকের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আবুল কাশেমকে কুল্যাগাছা বাজার থেকে ডেকে নেওয়া হয়। মোতালেবের বাড়ির পাশে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে একা পেয়ে বাঁশের লাঠি, লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, লিমন ও আজিজ নামের দুই অভিযুক্ত লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে আবুল কাশেমের স্পর্শকাতর অঙ্গে (অন্ডকোষে) উপর্যুপরি আঘাত করলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এসময় মতিয়ার, মোতালেব, মজিদসহ অন্যান্য আসামিরা তাকে জখম করে জঙ্গলে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই হামলায় আশিক, সেলিম ও নাজির নামের আরও তিনজন আহত হন। নাজিরের হাতের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
মামলার বিবরণ:
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত আবুল কাশেমের ছেলে মেহেদী হাসান গত ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে হরিণাকুণ্ডু থানায় ইউপি চেয়ারম্যানকে হুকুমের আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। (মামলা নং- ২০, ধারা: ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০২/৩০৭/১১৪/৩৪ দণ্ডবিধি)।
পুলিশের বক্তব্য ও পরিবারের ক্ষোভ:
হরিণাকুণ্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গিয়াস উদ্দিন জানান, “আসামিদের গ্রেফতারের জন্য তিনজন এসআই ও একজন এএসআই সম্মিলিতভাবে অভিযান চালাচ্ছি। তবে আসামিদের মোবাইল ফোন বন্ধ এবং তারা এলাকা থেকে পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না।”
এদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মামলা করার চার-পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ আসামিদের বাড়িতে একবারের জন্যও অভিযানে আসেনি। লাশ দাফনের সময় শরীরে বীভৎস আঘাতের চিহ্ন দেখার কথা উল্লেখ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের মা ও স্ত্রী। তারা এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।