প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, বিশেষ প্রতিবেদক:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে করা অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও উপপরিদর্শকসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পর নারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মওদুদ স্কুল রোড এলাকার হাবা সফিদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন-কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ, উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ মহিউদ্দিন, পুলিশ কনস্টেবল মো. ইছাক, মো. ইউছুফ ও শাহাদাত হোসেন। তারা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
অভিযোগ তদন্তে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দারুল ইহছান মাদরাসার চেয়ারম্যান মো. নূরুল আবছার একই এলাকার মানিক মিয়াসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৯-১০ জনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ করেন।
ওই অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত করতে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ, এসআই আরিফ মহিউদ্দিনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।
তদন্ত শেষে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার সময় অভিযোগকারী পক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হয়, বিবাদীরা নির্মাণাধীন ভবনের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করছেন। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা পুনরায় ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙচুরের কারণ জানতে চান।
এ সময় বিবাদী পক্ষের লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। হামলায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।
ঘটনার পর হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে ছেমনা খাতুন, বিয়াধুনি, মনোয়ারা, আয়েশা, অজি উল্লা, আবু সুফিয়ান ও বোবা জাবেরকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতাল থেকে নারীসহ ৭ জন গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃতদের স্বজন মো. বাবুল পুলিশের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পুলিশ তার শার্টের কলার ধরে। পরে বাড়ির নারীদের মারধর করা হয়। এরপর নারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে সড়কে থাকা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে পুলিশের দুজন সদস্যের হাতে হালকা আঘাত লাগে বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দারুল ইহছান মাদরাসার নির্মাণাধীন ভবনের জায়গাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
বিবাদী পক্ষ জায়গাটিতে মৌরসী স্বত্ব দাবি করে নোয়াখালীর দায়রা জজ আদালতে মামলা করেছে। অপরদিকে, অভিযোগকারী পক্ষ জায়গাটি ক্রয়সূত্রে নিজেদের মালিকানাধীন বলে দাবি করছে।
এ ভূমি বিরোধের জেরেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ বলেন, “তদন্তে গিয়ে আমিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছি। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাৎক্ষণিক নারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
এদিকে ঘটনার পর দারুল ইহছান মাদরাসার চেয়ারম্যান মো. নূরুল আবছার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।