বিশেষ প্রতিনিধিঃ-মোঃ সোহেল রানা
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রশাসনিক স্থবিরতা ও রাজনীতিকরণের কুয়াশা চিরে আজ এক নতুন ভোরের প্রত্যাশায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। রাষ্ট্রযন্ত্রের মূল চালিকাশক্তি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি এক উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘শাসক’ হওয়ার মোহ ত্যাগ করে জনসেবার মহান ব্রত ধারণ করাই হবে আগামীর সিভিল সার্ভিসের একমাত্র অঙ্গীকার।
রবিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি মিলনায়তনে ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই নীতিনির্ধারণী বার্তা দেন মন্ত্রী।
রাজনীতির ঊর্ধ্বে এক নতুন দিগন্ত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রশাসনের প্রতিটি রন্ধ্রে জমে থাকা দলীয়করণের জঞ্জাল ঝেড়ে ফেলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বিগত প্রায় দুই দশকের প্রশাসনিক রাজনীতিকরণ জনপ্রশাসনের মেরুদণ্ডকে দুর্বল করেছিল। এখন সময় এসেছে সেই শিকল ভাঙার। দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারত্বের মোড়কে নিজেদের সজ্জিত করে আমলাতন্ত্রকে পরিণত করতে হবে জনগণের প্রকৃত সেবকে।”
তথ্যের স্বচ্ছতা ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের কারিগর
রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হলো সঠিক তথ্য। অথচ অতীতের আক্ষেপ ঝরে পড়ল মন্ত্রীর কণ্ঠে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক হীনম্মন্যতায় পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে বিকৃত করা হয়েছিল। আদমশুমারি থেকে শুরু করে মাথাপিছু আয়—সব ক্ষেত্রেই সত্যকে আড়াল করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ দৃপ্তকণ্ঠে উচ্চারণ করেন, “সঠিক নীতি প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) এমনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে, যেন তা সত্যের আয়না হয়ে ওঠে। মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে গড়া ইমারত কখনোই টেকসই হতে পারে না।”
আগামীর বাংলাদেশ: কৃষি, শিক্ষা ও স্বপ্ন
দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি পুনর্গঠনে মন্ত্রী রেমিট্যান্স এবং কৃষিকে রাষ্ট্রের ‘প্রাণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “আমাদের মাটির গন্ধে মিশে আছে সমৃদ্ধি। কৃষিনির্ভর শিল্পায়ন এবং কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়েই এই জনশক্তিকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।” একই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে পুনরায় সক্রিয় করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শাসকের দম্ভ নয়, সেবার বিনয়
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তার সুরেই বলেন, “আপনারা সমাজের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত অংশ। জনগণের টাকায় লালিত আপনাদের একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত ‘জনসেবক’। নিয়মবহির্ভূত কোনো কাজই রাষ্ট্রের অকল্যাণ ছাড়া কিছু বয়ে আনবে না। সরকারের ৩১ দফা অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আপনাদের কর্মদক্ষতাই হবে আগামীর ডিজিটাল ও মানবিক বাংলাদেশের প্রধান হাতিয়ার।”
অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।