আব্দুস সামাদ, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের ধবলসতী বেলতলী মসজিদের পাড় পাকা জামে মসজিদে সাবেক ইমাম মোঃ শাহিনুর রহমান সিদ্দিকীর উসকানিতে বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থকদের প্রবেশ এবং ধর্মীয় পরিবেশ বিনষ্ট করার অপচেষ্টা ও মসজিদের ভিতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে এর প্রতিবাদে এবং সঠিক তথ্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও এলাকার সাধারণ মুসল্লিবৃন্দ।
শনিবার (১৮ জুলাই) মসজিদের ভেতরে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৩ জুলাই ২০২৬ খ্রি. রোজ শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবা ও পূর্ব আলোচনায় তৎকালীন ইমাম মাওলানা মোঃ শাহীনুর রহমান সিদ্দিকী অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, অশালীন, উসকানিমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। একজন ধর্মীয় নেতার মুখ থেকে এ ধরনের অশালীন বক্তব্য আসায় উপস্থিত সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মসজিদের পবিত্রতা ও এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে মসজিদ পরিচালনা কমিটি অত্যন্ত ধৈর্য ও সম্মানের সাথে ইমাম সাহেবের সাথে বসেন। কমিটি তাঁর যাবতীয় পাওনাদি সম্পূর্ণ বুঝিয়ে দিয়ে তাঁকে মৌখিকভাবে অনুরোধ করে যেন তিনি পরবর্তী জুমা থেকে মসজিদে না আসেন এবং ইমামতির দায়িত্ব থেকে বিরত থাকেন।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, বিদায়ী ইমাম মাওলানা মোঃ শাহীনুর রহমান সিদ্দিকী কমিটির এই সিদ্ধান্তকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেননি। বরং গত ১৭ জুলাই ২০২৬ খ্রি. শুক্রবার তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির পায়তারা করেন। জুমার নামাজের কিছু আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ৪নং ওয়ার্ড, পাটগ্রাম ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মোঃ আবেদুল ইসলাম ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থক ও বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের কর্মী-সমর্থক এবং কিছু মিডিয়া কর্মীকে সাথে নিয়ে আকস্মিকভাবে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করেন।
তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল মসজিদের ভেতরে সাধারণ মুসল্লিদের উসকে দিয়ে একটি বড় ধরনের গণ্ডগোল ও বিরোধ সৃষ্টি করা। পবিত্র মসজিদের ভেতর তারা সাধারণ মুসল্লিদের সাথে তর্কে জড়ায় এবং ধর্মীয় পরিবেশ বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালায়। ইমাম সাহেবের এই উসকানিমূলক আচরণ ও বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশের কারণে সাধারণ মুসল্লিদের মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা যেকোনো সময় এলাকার আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারত। সাবেক ইমামের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, অশালীন ভাষা এবং পরবর্তীতে বহিরাগত লোক এনে মসজিদের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
ধবলসতী এলাকার সর্বস্তরের জনগণ ও মুসল্লিবৃন্দ সবসময় শান্তি ও ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কোনো বিশেষ মহলের উসকানিতে এই শান্ত পরিবেশ যাতে বিনষ্ট না হয়, সেজন্য তারা মিডিয়ার মাধ্যমে সকলের সহযোগিতা কামনা করছেন। সংবাদ সম্মেলনে ধবলসতী পাকা জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রবিউল ইসলাম, সভাপতি মোঃ বাবু সহ এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মুসল্লিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।