আজিজুর ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
১৩ জুলাই, ২০২৬ রাজশাহীতে গোদাগাড়ী চলমান ভয়াবহ বন্যায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে হাজার হাজার কৃষক পরিবারের স্বপ্ন এখন পানির নিচে। বিশেষ করে জেলার নিম্নাঞ্চলের আবাদি জমিগুলো তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। তাদের উৎপাদিত ফসলের বড় একটি অংশ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গভীর সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্যায় তলিয়ে গেছে আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেতসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসল। অনেক কৃষক ঋন করে চাষাবাদ করেছিলেন, এখন তাদের সামনে শুধুই অনিশ্চয়তা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় মাঠের ফসল দ্রুত পচে নষ্ট হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে সক্রিয় হয়েছে রাজশাহী গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনে কৃষি দপ্তরের প্রধান দ্রুত পানি নিষ্কাশন যেখানে সম্ভব সেখানে পাম্প মেশিন বসিয়ে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করা হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বীজ ও সার সহায়তা পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পানি সরে যাওয়ার পর ক্ষেতের যত্ন এবং দ্রুত পরবর্তী ফসল রোপনের জন্য কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান,বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে কৃষি পুনর্বাসন প্যাকেজের আওতায় তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। কোনো কৃষকই যেন সহায়তার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।