আজিজুর ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
নাটোরের লালপুরে পৃথক দুটি সফল অভিযানে আদালতের সাজাপ্রাপ্ত দীর্ঘদিনের পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে লালপুর থানা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতরাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন অর্থ ঋণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং অন্যজন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দণ্ডাদেশ পাওয়া পলাতক আসামি।
অর্থ ঋণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার গ্রেপ্তারকৃত প্রথম আসামির নাম মোঃ শফিকুল ইসলাম (৪৫)। তিনি লালপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও ঋণ খেলাপির দায়ে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা চলমান ছিল।
উক্ত মামলায় দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা প্রদান করেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিজ গ্রাম গোপালপুর এলাকায় গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ম্যাজিস্ট্রেটের দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামি গ্রেপ্তার
অন্যদিকে, পুলিশের পৃথক আরেকটি অভিযানে গ্রেপ্তার হন উপজেলার ওয়ালিয়া গ্রামের জব্বার খন্দকারের ছেলে রফিকুল খন্দকার (৪০)। জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মারামারি ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার একটি মামলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রফিকুলকে দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
সাজার আদেশ হওয়ার পর থেকে সেও আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। রবিবার দিবাগত রাতে ওয়ালিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান,আদালতের নির্দেশে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত এই দুই আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। আমাদের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের দুটি চৌকস টিম গঠন করে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ সকালে তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। লালপুর উপজেলাকে অপরাধমুক্ত রাখতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি নিশ্চয়তা প্রদান করেন।