আজিজুর ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
১০-জুলাই শুক্রবার রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যকার দ্বন্দ ও পাল্টাপাল্টি মারামারির জেরে সৃষ্ট এই অচলাবস্থা নিরসনে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার যাত্রী।
জানা গেছে, গত সপ্তাহে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় যাত্রী তোলা ও বাস কাউন্টার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই জেলার শ্রমিকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই ঘটনার জের ধরে উভয় জেলার শ্রমিক ইউনিয়নগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে রাজশাহী নগরী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মধ্যে আন্তঃজেলা বাস চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
অচলাবস্থা নিরসনে দুই জেলার পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই রুটে বাস চালানো সম্ভব নয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা উভয় পক্ষের সাথে আলোচনার চেষ্টা করছি। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মিটে না গেলে বাস চালু করা ঝুঁকিপূর্ণ।
রাজশাহী জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান জানান,যাত্রীদের ভোগান্তির কথা ভেবে আমরা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি। উভয় জেলার নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আয়োজন করা প্রয়োজন।
সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, রোগী এবং কর্মজীবী মানুষ। বাসের বিকল্প হিসেবে চলাচল করা সিএনজি বা অটোরিকশা চালকরা সুযোগ বুঝে যাত্রীদের কাছ থেকে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন। ভুক্তভোগী এক যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ। মালিক-শ্রমিকদের লড়াইয়ের মাসুল কেন আমাদের দিতে হবে? প্রশাসনের উচিত দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এই রুটে জনচলাচল স্বাভাবিক করা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে দ্রুত সমঝোতা বৈঠক না করলে এই রুটে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আলোচনায় বসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।