নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট:
সিলেটের শাহজালাল (র.) মাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গিয়ে নানামুখী চাপে থাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলমের বদলি ও বিদায় ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনার। প্রশাসনিক কঠোর নির্দেশ উপেক্ষা করে মাজারের দানবাক্সের হিসাব জনসমক্ষে এনে তিনি যেন এক ‘অপ্রকাশিত’ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালেন।
দায়িত্ব হস্তান্তরের নাটকীয়তা রোববার ডিসি সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের পত্র আসার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তরের তাগিদ দিলেও, ডিসি সারওয়ার আলম সোমবার দুপুরে অফিস থেকে সোজা মাজারের দিকে যান। উদ্দেশ্য ছিল, বহুদিনের রহস্যে ঘেরা মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা করা। সেই মুহূর্তের খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
টাকা গণনার সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বারবার ফোন আসলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। অবশেষে বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মশিউর রহমানের নির্দেশে সার্কিট হাউজে তলব করা হয় তাকে। সেখানে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ডিসি সারওয়ার আলম নিজের পছন্দের কোনো কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব দিতে চাইলেও, শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে দায়িত্ব অর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাত ১০টা নাগাদ সম্পন্ন হয় এই প্রক্রিয়া।
মাজারের হিসাবের নতুন দিগন্ত দীর্ঘদিন অগোচরে থাকা মাজারের আয়ের ইতিহাসে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সারওয়ার আলম। মাত্র তিন দিনে দানবাক্স থেকে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ডিসি অফিসের তথ্যানুযায়ী, মাজারের এই টাকার সাথে তিনি নিজস্ব তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়ে মোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা সোনালী ব্যাংকের একটি নতুন অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছেন। প্রাপ্ত অর্থের তালিকায় নগদ টাকার পাশাপাশি ডলার, পাউন্ড, রিয়াল ও স্বর্ণালংকারও রয়েছে।
বিদায়বেলা মঙ্গলবার দুপুরে বিমানে সিলেট ত্যাগ করেন সারওয়ার আলম। যাওয়ার আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি লেখেন, “বিদায় সিলেট। ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য।” বিদায়ের আগে সার্কিট হাউজে কর্মকর্তাদের সাথে শেষ বৈঠকে তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও প্রদান করেন। একদিকে তার সমর্থনে অফিসের সামনে মানুষের ভিড়, অন্যদিকে তার প্রত্যাহারের দাবিতেও ছিল সরব অবস্থান—সব মিলিয়ে এক টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ডিসি সারওয়ার আলমের সিলেট অধ্যায়।