আজিজুর ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহী: খোদ রাজশাহী মহানগরীর ব্যস্ততম মোড়ে এক শিশুকে ‘সম্মোহন’ বা কোনো কিছুর প্রয়োগে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে ট্রাফিক পুলিশের এক কনস্টেবলের তীক্ষ্ণ নজরদারি ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ব্যর্থ হয়েছে সেই চেষ্টা। সুস্থ শরীরে উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় এক অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া শিশুর নাম রিয়ান হোসেন তাহা (১১)। সে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে। আটককৃত অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বাবুল (৪৮), যিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সুইপার হিসেবে কর্মরত। ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে শিশু তাহা কোচিং করার উদ্দেশ্যে নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় যাচ্ছিল। সে সিঅ্যান্ডবি মোড় থেকে একটি অটোরিকশায় ওঠে। অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত বাবুল হঠাৎ শিশুটির কানের কাছে হাত নিয়ে যান। শিশুটি প্রথমে হাত সরিয়ে দিলেও, এরপর থেকেই যেন সে তার নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। অভিযুক্ত ব্যক্তি যা বলছিল, তাহা ঠিক পুতুলের মতো তা-ই শুনছিল।
লক্ষ্মীপুর মোড়ে পৌঁছালে বাবুল শিশুটিকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
দেবদূতের মতো হাজির ট্রাফিক কনস্টেবল হাবিব:
লক্ষ্মীপুর মোড়ে তখন পেশাগত দায়িত্বে ছিলেন মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কনস্টেবল হাবিবুর রহমান হাবিব। মদ্যপ এক ব্যক্তির সাথে একটি শিশুর এমন অস্বাভাবিক আচরণ দেখে তার মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। তিনি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শিশুটির পরিচয় জানতে চান।
এ সময় অভিযুক্ত বাবুল একেকবার একেক তথ্য দিতে থাকেন কখনো বলেন তাহা তার ভাই, আবার কখনো দাবি করেন সে তার নিজের ছেলে। কথাবার্তায় চরম অসংলগ্নতা দেখে কনস্টেবল হাবিব আর দেরি করেননি। তিনি দ্রুত বাবুলকে আটকে ট্রাফিক বক্সে নিয়ে যান এবং বিষয়টি রাজপাড়া থানা পুলিশকে জানান।
পরে রাজপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাবুলকে হেফাজতে নেয়। ট্রাফিক পুলিশ শিশুটির কাছ থেকে তার বাবার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করলে তাহার বাবা সাখাওয়াত হোসেন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় বুঝে নেন।
পরবর্তীতে সন্ধ্যায় ছেলেকে নিয়ে রামেক হাসপাতালে যান বাবা সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান: অটোরিকশায় ওই লোক কানের কাছে হাত দেওয়ার পর থেকেই আমার ছেলে কেমন যেন অবশ হয়ে গিয়েছিল। অভিযুক্ত যা বলছিল, ছেলেও তা-ই করছিল। আমাদের সন্দেহ, কোনো কিছু প্রয়োগ করে বা সম্মোহন (অজ্ঞান) করে ছেলেকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছিল।
তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন,শিশুটি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকায় আপাতত কোনো গভীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন পড়েনি। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত বাবুলকে আটক করা হয়েছে। সে ঠিক কী উদ্দেশ্যে এবং কোনো রাসায়নিক বা বিশেষ কৌশল ব্যবহার করে শিশুটিকে নিয়ে যাচ্ছিল, তা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।