স্বার্থান্বেষী রাজনীতি ও জনকল্যাণের ব্রত
— মোঃ রফিকুল ইসলাম
রাজনীতি মূলত একটি মহান ও জনকল্যাণমুখী ব্রত। দেশ ও দশের অধিকার আদায়ের প্রত্যয় নিয়েই অতীতে মানুষ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতেন। সেই সোনালী সময়ে রাজনীতি ছিল নিখাদ ত্যাগের এক অনন্য ক্ষেত্র; পাওয়ার মোহের চেয়ে দেওয়ার মানসিকতাই ছিল প্রধান চালিকাশক্তি। আদর্শের টানে রাজনীতিতে এসে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন—এমন দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নজির আমাদের ইতিহাসে বিরল নয়।
অবশ্য রাজনীতিতে যারা আসেন, তাদের মনে প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা একেবারে থাকে না—এমন দাবি করা বাস্তবসম্মত নয়। একজন সৎ রাজনীতিবিদের মূল প্রাপ্তি হলো জনগণের ভালোবাসা, অকৃত্রিম সম্মান এবং দেশ পরিচালনার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগ তথা রাষ্ট্রক্ষমতা। রাজনীতির মাঠে এই ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যকে কখনোই নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা যায় না। ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্যই তো রাজনৈতিককর্মীরা নিরন্তর ঘাম ঝরান, কারাবরণ করেন এবং অগণিত মিথ্যা মামলার খড়্গ মাথায় নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান। তবে তাদের এই দীর্ঘ সংগ্রামের মূল লক্ষ্য থাকে সেই ক্ষমতাকে গণমানুষের কল্যাণে ও দেশের উন্নয়নে সার্থকভাবে ব্যবহার করা।
বাস্তবতার চিত্র অবশ্য সবসময় একরকম থাকে না। যেকোনো রাজনৈতিক দল যখন রাষ্ট্রক্ষমতার আসনে আসীন হয়, তখন এর চারপাশ ঘিরে একশ্রেণির তোষামোদকারী ও সুবিধাবাদী চক্রের আনাগোনা শুরু হয়। নীতিহীন এই চাটুকাররা মূল দলের প্রতি তথकथित সমর্থন ও সহযোগিতার মুখোশ পরে নিজস্ব ফায়দা হাসিলে মরিয়া হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক ময়দানে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে তারা নানা ধরনের ক্রিয়াকলাপে লিপ্ত হয়। এ দেশের প্রায় প্রতিটি প্রধান রাজনৈতিক দলেরই অনুমোদিত অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন রয়েছে, যা দলীয় কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে গতিশীল করার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, বিএনপির অনুমোদিত অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সংখ্যা ১১টি। কিন্তু এই কাঠামোর আড়ালে অনেক সময় সুবিধাবাদীদের অনুপ্রবেশ রাজনীতির মূল স্রোতকে কলুষিত করে তোলে।