আমির হোসেন, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় জেলা প্রশাসনের অধীনে গঠিত জেলা মনিটরিং কমিটিতে পক্ষপাতিত্ব ও দুর্বল কমিটি গঠনের মাধ্যমে কোটি টাকা লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও কাবিটা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ড. ইলিয়াস মিয়া এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মো. মামুন হাওলাদার স্বাক্ষরিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা-২০২৩ এর আওতায় বাস্তবায়িত কাজ মনিটরিংয়ের জন্য জেলা কমিটির মনোনীত প্রতিনিধিদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। উক্ত তালিকার পরিশিষ্ট-গ অনুযায়ী, জেলার ১২টি উপজেলার ৮টি গ্রুপের মধ্যে ৪টিতেই একাত্তর টিভির জেলা প্রতিনিধি শহীদ নুর আহমদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অধিকার-এর জেলা সমন্বয়ক আমিনুল হককে ৩টি, বেসরকারি সংস্থা হাউসের নির্বাহী পরিচালক সালেহীন চৌধুরী শুভকে ৩টি, সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজের জেলা প্রতিনিধি সাইফুল চৌধুরীকে ৩টি, ডাচ বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন লিটনকে ২টি এবং সুজন-এর সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদকে ২টি গ্রুপে সদস্য করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিজন সেন রায়, দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন, পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি একেএম আবু নাছার, এনটিভির জেলা প্রতিনিধি দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী ও সৃজন বিদ্যাপীঠের উপাধ্যক্ষ কানিজ সুলতানাকে ১টি করে গ্রুপে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ওবায়দুল হক মিলনকে ৩টি গ্রুপে রাখা হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। অভিযোগ উঠেছে, সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক ড. ইলিয়াস মিয়া তার অনুগত ও চাটুকার হিসেবে পরিচিত কয়েকজন সংবাদকর্মীকে বিশেষ সুবিধা দিতেই জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এই কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। জেলায় কর্মরত ৩৭টি টেলিভিশন ও অর্ধশতাধিক জাতীয় দৈনিকের অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী এবং জেলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের উপেক্ষা করে নবীন ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের একাধিক গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করায় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গণমাধ্যমকর্মী অভিযোগ করেন, বিদায়ী জেলা প্রশাসক একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ছিলেন এবং তিনি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজস্ব বলয় তৈরি করে সরকারি অর্থের অপচয় ও লুটপাটের পথ প্রশস্ত করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই দুর্বল ও পক্ষপাতমূলক মনিটরিং কমিটির কারণেই ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও সরকারি অর্থের হরিলুট হয়েছে। তারা এই কমিটির বিতর্কিত সদস্যদের সম্পদের হিসাব গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সকল স্তরের সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি স্বচ্ছ মনিটরিং কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান জানান, তিনি সম্প্রতি যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।