সিলেট জেলা আদালত প্রাঙ্গণে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অ্যাডভোকেট ইয়ামিন চৌধুরী নামে এক আইনজীবীর ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ১৫ এপ্রিল দুপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালানো এই হামলায় ভুক্তভোগী আইনজীবীর হাতের দুটি আঙুল মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। বর্তমানে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের শয্যা থেকে আহত আইনজীবী ইয়ামিন চৌধুরী জানান, এই হামলার মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের পেশাগত বিবাদ ও প্রতিহিংসা। অভিযুক্ত হামলাকারী মাসুক উদ্দিন (একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত) একটি হত্যা মামলায় বিবাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে ইয়ামিন চৌধুরীর আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে ক্ষুব্ধ ছিলেন।
ইয়ামিন চৌধুরী জানান:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের একটি অনুষ্ঠানের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদল নেতা সাহেদ আহমদ। সেখানে প্রবাসে থাকা মাসুক উদ্দিনের এক ভাই নেতিবাচক মন্তব্য করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর সূত্র ধরেই ১৫ এপ্রিল দুপুরে ওত পেতে থাকা মাসুক উদ্দিন ধারালো অস্ত্র নিয়ে ইয়ামিন চৌধুরীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাঁকে হত্যার চেষ্টা চালায়।
”আদালত প্রাঙ্গণে একজন আইনজীবীর ওপর এমন হামলা বিচার ব্যবস্থার নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। আমরা অবিলম্বে অপরাধীর গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” — সাহেদ আহমদ, ছাত্রদল নেতা।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম ইয়াহ-ইয়া চৌধুরী (সুহেল) এবং সাধারণ সম্পাদক মো. জোবায়ের বখ্ত জুবেরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির জানান:
”ঘটনাটি আমরা অবগত হয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
বর্তমানে অভিযুক্ত মাসুক উদ্দিন পলাতক থাকায় তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সাধারণ আইনজীবীরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তার জোর দাবি তুলেছেন।