শ্রীপুর (গাজীপুর): গাজীপুরের শ্রীপুরে ৯ম শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে (১৬) দুই দফায় অপহরণের চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে প্রধান আসামি মো. আবিদ (২১) এখনও পলাতক রয়েছে। অপহরণের সময় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে একদল যুবক মেয়েটিকে ঘিরে ফেলে। প্রধান আসামি মো. আবিদ ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন ১৫ এপ্রিল সকালে পরিবারের চাপের মুখে আবিদ মেয়েটিকে তার বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক বসলেও কোনো সমাধান আসেনি।
প্রথম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ১৫ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে আবারও দলবল নিয়ে ছাত্রীর বাড়িতে চড়াও হয় আসামিরা। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা, মারধর এবং বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সামনে থেকেই দ্বিতীয়বারের মতো মেয়েটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনায় ভিকটিমের পিতা হাদিউল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি আবিদসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ দল অভিযানে নামে। অবশেষে শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীপুরের এমসি বাজার এলাকা থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় এজাহারভুক্ত ও জড়িত সন্দেহে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হলেও মূল হোতা আবিদ কৌশলে পালিয়ে যায়।
উদ্ধারকৃত ছাত্রীকে মেডিকেল পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দি প্রদানের জন্য পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের পরিবারের দাবি, পূর্বপরিচয়ের গুঞ্জন থাকলেও মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় কোনো সম্পর্ক বা বিয়ে আইনত বৈধ নয়। তারা এই দুঃসাহসিক ঘটনার পেছনে থাকা মূল হোতাসহ সকল আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
শ্রীপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক প্রধান আসামি আবিদসহ অন্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।