শৃঙ্খল ভাঙো
হাফিজুল ইসলাম লস্কর
বিদ্যুৎ আসে না, দেখা দেয় শুধু
এ কেমন পরিহাস!
চৈত্রের তাপে পুড়ছে গোলাপগঞ্জ
বুকের ভেতর দীর্ঘশ্বাস।
চব্বিশ ঘণ্টার আঠারো ঘণ্টাই
কেটে যায় আঁধারে,
এ তো লোডশেডিং নয়, শোষণের
আঘাত বারে বারে।
কত আর সইবো এই আঁধারের
নির্মম উৎপাত?
রুখে দাঁড়াতে হবেই এবার
ভেঙে দাও জুলুমের হাত।
একটুখানি মেঘ, একটুখানি বাতাস
তাতেই বিদ্যুৎ হায়,
মাস শেষে শুধু চড়া বিলের বোঝা
দুর্ভোগ বাড়িয়ে যায়।
টাকা দিয়ে মোরা কিনছি ভোগান্তি
এ কেমন আদিম খেলা?
অন্ধকার যুগে ঠেলে দিয়ে আমাদের
কর্তৃপক্ষ করে অবহেলা।
ছটফট করে মরছে শিশু-বৃদ্ধ
হাসপাতালে কান্নার রোল,
আইপিএস-ও আজ নিথর, নির্বাক
ভেঙে গেছে ধৈর্যের খোল।
ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে উঠার উপক্রম
কৃষক-শ্রমিক দিশেহারা,
মোমবাতি জ্বেলে পড়ছে ছাত্ররা
ভবিষ্যৎ মোদের আলোহারা!
ফোন দিলে ওপারে অন্ধ-বধির
কণ্ঠে দায়সারা সুর,
হে শোষক! জেনে রেখো তোরা
পতনের দিন নয় বেশি দূর।
দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে মোদের
কতকাল সইবো এ পাপ?
গোলাপগঞ্জের প্রতিটি ঘর উৎতপ্ত
জ্বলছে ক্ষোভের তাপ।
জেগে ওঠো তবে হে শোষিত প্রাণ
ভাঙো অন্ধকারের ঘোর,
হাহাকার ছেড়ে গর্জে ওঠো এবার
আনবো নতুন ভোর!
পল্লী বিদ্যুতের এই ভেলকিবাজি
রুখে দাঁড়াবো একসাথে,
আলোর মিছিল নামবেই এবার
ন্যায়বিচারের এই তল্লাটে!