September 20, 2026, 3:57 pm
শিরোনাম:
জমিজমা বিরোধ নিয়ে পরিকল্পিত হামলায় কামাল মাস্টার আহত। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত ক্যাম্পাস গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান — ভাইস-চ্যান্সেলর, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয় শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে লেদা ক্যাম্পে যুব সংলাপ কালিগঞ্জে ২ বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ১ ইউপি সদস্য সহ ৩ নারীর মৃত্য নেত্রকোনায় ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় নাীরকে হত্যার হুমকি প্রধান শিক্ষকের, থানায় অভিযোগ  সুপরিচিত কবি-সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সম্পাদিকা, ছড়াকার ও কণ্ঠশিল্পী *মাধুরী ব্যানার্জীর* লেখা অণুগল্প : *অদ্ভূত শূন্যতা* নেত্রকোনায় জমি দখলের পাঁয়তারার প্রতিবাদে মানববন্ধন নরসিংদীতে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন: উসকানিমূলক প্রচারণা ও হুমকির প্রতিবাদ, জানমালের নিরাপত্তার দাবি নবীনগর সদর বাজারে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে এক কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক নড়াইলে দেশীয় অস্ত্রসহ কোর্ট চত্বর থেকে ১১ জনকে আটক করেছেন নড়াইল সদর থানা পুলিশের একটি দল,
নোটিশ:
দৈনিক মুক্তি সমাচার ও ডিএমএস টিভি (DMS TV) ​”সত্যের সন্ধানে দৃষ্টি — ডি.এম.এস.” এবং ইনসানিয়াত লাইফ ব্লাড ফাউন্ডেশন ​”মানবতার সেবায় রক্তদান, বাঁচবে অকাল প্রাণ” (একটি অরাজনৈতিক ও সম্পূর্ণ মানবিক সংগঠন) ​পরিচালনা পর্ষদ: ​ইঞ্জিনিয়ার- মোঃ আল-আমিন মোল্যা, সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা- সভাপতি ।।। ​মোঃ মাসুদ রানা সুমন, প্রকাশক ও প্রতিষ্ঠাতা- সাধারণ সম্পাদক ।।। ​মোঃ আব্দুর রহিম সবুজ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা- সিনিয়র সহ সভাপতি ।।। কর্তৃপক্ষ’র নোটিশ ব্যতীত কোনো ধরনের লেনদেন করবেন না; যদি করেন- কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেনা । ​যোগাযোগের তথ্য ও লিঙ্কসমূহ: ​অনলাইন আবেদন ফরম: https://forms.gle/p9ZvVivX35GsaeoAA, ওয়েবসাইট ভিজিট করুন: www.muktisamachar.com, ​ই-মেইল: dailymuktisamachar@gmail.com, ​সরাসরি যোগাযোগ: (মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ): (প্রকাশক)- ​📞 +৮৮০১৮২৮-৭৯২৭৫৫, (সম্পাদক)- 📞 +৮৮০ ৯৬৩৮-৭৫১৮১০, ​প্রধান কার্যালয়: ইস্টার্ন হাউজিং, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬ ।।। ​যে-কোনো সংবাদ, বিজ্ঞাপন বা তথ্যের জন্য আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন ।৷ ​”দুই মাসেই সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে—প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।”

শুভ জন্মাষ্টমী: তত্ত্ব, তাৎপর্য ও শ্রীকৃষ্ণের ধরামাজে আগমন,হিন্দু ধর্মের অন্যতম প্রধান ও উৎসবমুখর একটি দিন হলো শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র জন্মাষ্টমী। 

Reporter Name

সুবর্ণ বিশ্বাস, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি।

 

ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ও রোহিণী নক্ষত্রের শুভক্ষণে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই দিনটি কেবল একটি পৌরাণিক উৎসব নয়, বরং অন্যায় ও পাপাচারের বিরুদ্ধে সত্য, ন্যায় ও সনাতন ধর্মের জয়ের এক মহাসন্ধিক্ষণ।

অবতার তত্ত্ব ও জন্মকাহিনি

শ্রীকৃষ্ণের জন্মবৃত্তান্ত অত্যন্ত অলৌকিক ও তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বাপর যুগের শেষভাগে মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসের পাপাচারের মাত্রা চরম সীমায় পৌঁছেছিল। কংস নিজের বোন দেবকী ও ভগ্নিপতি বসুদেবকে কারাগারে বন্দি করে রাখেন। এক দৈববাণীতে বলা হয়েছিল যে, দেবকীর অষ্টম সন্তানই হবে কংসের নিধনকারী।

সেই অনুযায়ী, তীব্র দুর্যোগময় এক ভাদ্র পূর্ণিমার পর কৃষ্ণপক্ষের গভীর রাতে কারাগারে বন্দি দেবকীর গর্ভে শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। শিশুপুত্রকে কংসের হাত থেকে রক্ষা করতে বসুদেব ভীষণ ঝড়-বৃষ্টি ও উত্তাল যমুনা নদী পার হয়ে তাঁকে গোকুলে তাঁর পালক পিতা নন্দ ও মাতা যশোদার ঘরে রেখে আসেন এবং বদলে মহামায়াকে নিয়ে ফিরে আসেন। পরবর্তীকালে এই শিশু কৃষ্ণই হয়ে ওঠেন অত্যাচারী কংসের অন্তক এবং অধর্মের বিনাশকারী।

জন্মাষ্টমীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

ভগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণ নিজেই বলেছেন:

“যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।।

অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।।”

অর্থাৎ, যখনই পৃথিবীতে ধর্মের গ্লানি ঘটে এবং অধর্মের প্রাদুর্ভাব হয়, তখনই সত্য ও ধর্মকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে ভগবান স্বয়ং যুগে যুগে অবতাররূপে আবির্ভূত হন।

জন্মাষ্টমীর মূল বার্তা হলো—অন্ধকার যতই ঘন হোক না কেন, আলোর আগমন অবশ্যম্ভাবী। দেবকীর অন্ধকার কারাগার যেমন শ্রীকৃষ্ণের আগমনে আলোকিত হয়েছিল, তেমনি মানুষের মনের ভেতরে থাকা অজ্ঞানতা, লোভ ও হিংসার অন্ধকারও কৃষ্ণের ভক্তি ও দর্শনের মাধ্যমে দূর হতে পারে।

উৎসবের আবহ ও উদযাপন

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে এবং বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিটি মন্দিরে ও ঘরে ঘরে বিপুল আনন্দ- উদ্দীপনা দেখা যায়:

উপবাস ও নিশি-পূজা: ভক্তগণ দিনভর উপবাস থেকে গভীর রাতে (কৃষ্ণের জন্মের ক্ষণে) পূজার্চনা করেন।

দহি হান্ডি ও আনন্দ শোভাযাত্রা: বিশেষ করে ভারতের মহারাষ্ট্রে ‘দহি হান্ডি’ (মাখনের হাঁড়ি ভাঙা) এবং বাংলাদেশে জাকজমকপূর্ণ “জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা” (যেমন ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বের হওয়া ঐতিহাসিক শোভাযাত্রা) আয়োজন করা হয়।

ভোগ ও কীর্তন: শ্রীকৃষ্ণ মাখন ও মিষ্টি পছন্দ করতেন বলে তাঁকে মাখন, তালের বড়া, নাড়ু ও হরেক রকমের মিষ্টান্ন নিবেদন করা হয়। মন্দিরগুলোতে চলে অবিরাম হরিনাম কীর্তন ও গীতাপাঠ।

উপসংহার

শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও তাঁর উপদেশ বা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা মানবজাতিকে কর্তব্যের পথ, নিষ্কাম কর্ম ও ভক্তির বার্তা দেয়। বর্তমান হিংসা ও অস্থিরতার পৃথিবীতে কৃষ্ণের প্রেম, ন্যায় ও সাম্যের দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। জন্মাষ্টমী আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং সত্যের পথে অবিচল থাকাই জীবনের পরম ধর্ম।



ফেসবুকে আমরা