রেজাউল হক, বিশেষ প্রতিনিধি:
সাংবাদিক আনিছুরজ্জামান খোকনের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে “ন্যাক্কারজনক” আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
জানা যায়, ঢাকা উত্তরখান এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক আনিছুরজ্জামান খোকনের ক্রয়কৃত প্লটের ১০ ফুট রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, তার এবং বিপরীত পাশের প্লটের দলিলে স্পষ্টভাবে চলাচলের রাস্তার উল্লেখ থাকলেও, পরবর্তীতে সেই রাস্তা অনৈতিকভাবে অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এই জালিয়াতি ও বিরোধ নিয়ে থানায় অভিযোগ ও জিডি করা সত্ত্বেও, পুলিশ উল্টো খোকন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা গ্রহণ করেছে। এমনকি তার পরিবারের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যার ভিডিও প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে।
ঢাকা প্রেস ক্লাবের কঠোর অবস্থান
এক যৌথ বিবৃতিতে ঢাকা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল এবং সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন:
“সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা ও হয়রানিমূলক মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য চরম হুমকি এবং গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা মাত্র।”
বিবৃতি প্রদানকারী উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দ
এই ঘটনার প্রতিবাদে সংহতি প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, যাদের মধ্যে রয়েছেন:
আলহাজ্ব মোঃ তৈয়বুর রহমান (ভাইস-চেয়ারম্যান, দক্ষিণ অঞ্চল সাংবাদিক ইউনিয়ন)।
ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হোসেন ভূঁইয়া (চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউজ ক্লাব)।
বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান (আইন বিভাগ)।
অধ্যাপক মোঃ মাসুদ এ খান (চেয়ারম্যান, বেটার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন)।
কাজী হায়াৎ (সভাপতি, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি)।
জাতীয় ফুটবলার মোঃ কাউসার হামীদ।
সহ-সভাপতি তালুকদার রুমী, মোঃ জসিমউদ্দিন, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানসহ আরও অনেক সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশকবৃন্দ।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই সাজানো মামলা প্রত্যাহার, হামলাকারীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিক খোকন ও তার পরিবারের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য যে, ঢাকা জেলার উত্তরখান থানাধীন চানপাড়া গার্ডেন সোসাইটির আবুল কালামের ছেলে আবু ছায়েম এই মামলাটি দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। সাংবাদিক খোকন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “পুলিশ সব সত্য জানার পরও কেন এই মিথ্যা মামলা গ্রহণ করল?”