সুবর্ণ বিশ্বাস, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি।
প্রেমের টানে ঘর বেঁধেছিলেন ২ বছর আগে। কিন্তু ভালোবাসার সেই রঙিন সম্পর্কের এমন করুণ পরিণতি হবে, তা কখনো ভাবেননি শেরপুরের মেয়ে হ্যাপি। বর্তমানে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের কোনো হদিস না পেয়ে বিচারের দাবিতে ও স্বামীকে ফিরে পেতে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার জোড়াদহ গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই তরুণী।
ঘটনার পটভূমি ও পরিচয়:
ভুক্তভোগী হ্যাপি জামালপুর ও শেরপুর এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে অভিযুক্ত স্বামী সিয়ামের (২১) বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার জোড়াদহ গ্রামের বাজার সংলগ্ন এলাকায়। তিনি খন্দকার মোঃ ইমদাদুল হক সেলিম ও শৈলেশমিন মিনা দম্পতির ছেলে।
পরিচয় থেকে পরিণয়:
ভুক্তভোগী হ্যাপির সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজশাহী কলেজে পড়ালেখাকালীন মুঠোফোনে পরিচয় হয় সিয়ামের সাথে। পরিচয়ের সূত্র ধরে তৈরি হয় প্রেমের সম্পর্ক। দুই বছর আগে সিয়ামের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে এবং সিয়ামের দাদার বাড়ি জোড়াদহের ঠিকানাকে স্থায়ী হিসেবে দেখিয়ে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর এক বছর তাঁরা রাজশাহীতে একটি ভাড়া বাসায় সংসারও করেন।
হঠাৎ উধাও ও প্রবঞ্চনা:
হ্যাপির অভিযোগ, ৫ দিন আগে সিয়ামের মা এসে তাঁকে একটি ভাড়া বাসায় রেখে চলে যান। এরপর থেকেই সিয়াম ও তাঁর মা দুজনেই নিজেদের মুঠোফোন বন্ধ করে দেন। শুধু তা-ই নয়, বাড়িওয়ালাকেও কড়া বার্তা দিয়ে দেওয়া হয় যেন হ্যাপির সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখা না হয়।
অশ্রুসজল কণ্ঠে হ্যাপি বলেন, “সিয়াম আমাকে কথা দিয়েছিল ২ বছর পর পারিবারিকভাবে বড় করে অনুষ্ঠান করে আমাকে ঘরে তুলে নেবে। কিন্তু এখন ও আর ওর পরিবারের সবাই সব অস্বীকার করছে। আমাদের বিয়ের সব নথিপত্র, ছবি ও ভিডিও সিয়াম আগেই ডিলেট করে দিয়েছে।”
বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনি সহায়তার আকুতি:
স্বামী ও শাশুড়ির মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো উপায় না পেয়ে হ্যাপি এখন জোড়াদহ গ্রামে অবস্থান করছেন এবং স্বামী হিসেবে সিয়ামের স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
এদিকে, প্রেমের সম্পর্কের এমন প্রতারণামূলক সমাপ্তি ও স্ত্রীকে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জোড়াদহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণী তাঁর সংসার ফিরে পেতে ও সুবিচারের আশায় স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আকুল সহযোগিতা কামনা করেছেন।