আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মোঃ সোহেল
লন্ডন: যুক্তরাজ্য সরকারের ব্রিটিশ স্টিল জাতীয়করণের নাটকীয় সিদ্ধান্তের জেরে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে চীন ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে। বেইজিং এই পদক্ষেপকে তাদের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘জিংয়ে গ্রুপ’-এর বৈধ স্বার্থের ওপর আঘাত বলে বর্ণনা করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত ইস্পাত শিল্প রক্ষার দোহাই দিয়ে ব্রিটিশ সরকার মালিকানা নিজেদের হাতে তুলে নিলেও, চীন একে সরাসরি বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগের কারণ
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্রিটিশ সরকারের এই একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যে চীনা বিনিয়োগের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বেইজিংয়ের দাবি অনুযায়ী, জিংয়ে গ্রুপ গত কয়েক বছর ধরে ব্রিটিশ স্টিলের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং হাজার হাজার কর্মসংস্থান রক্ষায় যে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে, বর্তমান জাতীয়করণের মাধ্যমে তার সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি। চীন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিনিয়োগের সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণের দাবি
বিশ্লেষকদের মতে, জিংয়ে গ্রুপের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ব্রিটিশ সরকারের কাছে তাদের বিনিয়োগের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। বেইজিংয়ের দাবি, ‘চীন-ইউকে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি’ অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই বিদেশী বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ এভাবে ক্ষুণ্ণ করা যায় না। এটি শুধু একটি বাণিজ্যিক বিরোধ নয়, বরং এটি দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক আস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।
বিদ্যমান সংকট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
২০২০ সালে জিংয়ে গ্রুপ মালিকানা গ্রহণের পর থেকে ব্রিটিশ স্টিলকে লোকসানের মুখ থেকে ফেরানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের তীব্র আর্থিক সংকট এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতায় কোম্পানিটি পুনর্গঠন অসম্ভব হয়ে পড়ে। গত বছর যুক্তরাজ্য সরকার এর পরিচালন নিয়ন্ত্রণ নিলেও, জুলাই ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়। ব্রিটিশ সরকারের লক্ষ্য ছিল স্থানীয় ইস্পাত শিল্পকে সুরক্ষিত রাখা। কিন্তু এই জাতীয়করণের প্রক্রিয়ায় চীনা বিনিয়োগকারীদের বাদ দেওয়া বা পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার বিষয়টিই এখন নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, যদি এই সমস্যার দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না হয়, তবে এর প্রভাব শুধু ইস্পাত শিল্পেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভবিষ্যতে অন্যান্য খাতেও চীনা বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশ করতে দ্বিধাবোধ করবে। বর্তমানে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার দিকে মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।