এম আর সুমন বিশ্লেষকঃ-
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত পরিচয় ও জীবনদর্শনের পাশাপাশি সমাজ ও পারিবারিক জীবনের এক স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে পোস্ট দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারী ও লেখালেখির সাথে যুক্ত আফসানা আক্তার আফসু। তার ২০ হাজার ফলোয়ার এবং ৬ হাজার বন্ধুর একটি বড় প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এই পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। বিশেষ করে সমাজে পরকীয়ার কারণ, বয়সন্ধিক্ষণের মনস্তত্ত্ব এবং আইনি শূন্যতা নিয়ে তার করা মন্তব্যগুলো নিয়ে এখন বিভিন্ন মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
পোস্টের শুরুতে নিজের শিক্ষাজীবন (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সোশ্যাল ওয়ার্ক বা সমাজকর্ম বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স) এবং ফিল্ডওয়ার্ক বা মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন আফসু। তিনি দাবি করেন, পড়াশোনার সুবাদে কিশোর বয়স থেকে শুরু করে বিবাহিত জীবন, ডিভোর্স এবং পরকীয়ার মতো জটিল সামাজিক সমস্যাগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন।
তার বিশ্লেষণে বাংলাদেশের সমাজে পরকীয়ার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দুটি বিষয়:
১. স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অবহেলা
২. নারীদের অতিরিক্ত অর্থমুখী বা লোভী মানসিকতা
বয়স বাড়ার সাথে সাথে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের কারণে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়, তার একটি চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন। তার মতে, ৬০ বছর বয়সে একজন পুরুষ যখন কর্মজীবন থেকে অবসরে যান, তখন স্ত্রীর বয়স সাধারণত ৫০-৫৫ এর কাছাকাছি থাকে। এ সময় নারীদের শারীরিক পরিবর্তন বা হরমোনজনিত কারণে অনেক সময় সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ কমে যায়, কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে জৈবিক চাহিদা ও অবসর সময় বেশি থাকায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক পুরুষ যৌবনে নিজেদের সমস্ত সম্পদ বা ফ্ল্যাট স্ত্রীর নামে লিখে দেন এবং পরবর্তীতে ছেলেমেয়েরাও মায়ের পক্ষে চলে যায়। ফলে অবসরের পর ওই পুরুষটির হাতে না থাকে কোনো আর্থিক সচ্ছলতা, না থাকে পরিবারের মূল্যায়ন। এই অবহেলা, একাকীত্ব এবং অপূর্ণতা থেকে অনেক পুরুষ গোপনে পরকীয়ার দিকে ঝুঁকে পড়েন, যা পরবর্তীতে সামাজিকভাবে ফাঁস হয়ে গেলে তাদের চরম অপমান ও অপদস্থের শিকার হতে হয়।
পোস্টে আফসু একটি বড় আইনি ও সামাজিক শূন্যতার কথা তুলে ধরেছেন। তার মতে, প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশে সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেক্স বা শারীরিক সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা আইন না থাকায় মানুষ পদে পদে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ে। সমাজ পরকীয়া বা এই ধরনের সমস্যাগুলোকে সংশোধনের দৃষ্টিতে না দেখে কেবল লজ্জিত ও অপমান করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে।
পোস্টের শেষাংশে আফসু জানিয়েছেন যে, মেয়ে হিসেবে এ ধরনের বিষয় নিয়ে কথা বলা বা লেখালেখি করার ক্ষেত্রে অনেকেই নানা রকম কটূক্তি বা নেতিবাচক মন্তব্য করেন। তা সত্ত্বেও পাঠকদের উৎসাহ পেলে তিনি পরকীয়া, পারিবারিক কলহ এবং সমাজকর্মের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া বিষয়গুলো নিয়ে ধারাবাহিক লেখা চালিয়ে যেতে চান।
তার এই খোলামেলা আলোচনা একদিকে যেমন রক্ষণশীল সমাজে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে বহু মানুষ একে বাস্তবসম্মত সামাজিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত প্রকাশ করছেন।