November 6, 2026, 1:56 pm
শিরোনাম:
ঝিনাইদহের গিলাবাড়িয়ায় সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত শ্রীশ্রী মহানামযজ্ঞানুষ্ঠান: ভক্তদের মহামিলন ও সম্প্রীতির অনন্য বার্তা দীপাবলির আলোয় স্বপ্ন বুনছেন রংপুর অঞ্চলের কুমাররা রমাগঞ্জ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন আসলে কি সঠিক ভাবে সরকারি গাছ কাটার হবে তদন্ত চটকদার খবর বনাম জনস্বার্থ: গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জয়গান ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ (সিজন-২)’-এর শুভ উদ্বোধন: চুয়াডাঙ্গায় ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হলিধানি ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উদ্যোগে ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিএনপি’র প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয় দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার (০৬)ছয় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি রুহুল আমিনকে আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সংবর্ধনা জকিগঞ্জের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য: প্রথম কর্মদিবসে ডা. জয়নাল আবেদীন গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক ফাহিম আশরাফের ২৮তম জন্মবার্ষিকী আজ
নোটিশ:
দৈনিক মুক্তি সমাচার ও ডিএমএস টিভি (DMS TV) ​”সত্যের সন্ধানে দৃষ্টি — ডি.এম.এস.” এবং ইনসানিয়াত লাইফ ব্লাড ফাউন্ডেশন ​”মানবতার সেবায় রক্তদান, বাঁচবে অকাল প্রাণ” (একটি অরাজনৈতিক ও সম্পূর্ণ মানবিক সংগঠন) ​পরিচালনা পর্ষদ: ​ইঞ্জিনিয়ার- মোঃ আল-আমিন মোল্যা, সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা- সভাপতি ।।। ​মোঃ মাসুদ রানা সুমন, প্রকাশক ও প্রতিষ্ঠাতা- সাধারণ সম্পাদক ।।। ​মোঃ আব্দুর রহিম সবুজ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা- সিনিয়র সহ সভাপতি ।।। কর্তৃপক্ষ’র নোটিশ ব্যতীত কোনো ধরনের লেনদেন করবেন না; যদি করেন- কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেনা । ​যোগাযোগের তথ্য ও লিঙ্কসমূহ: ​অনলাইন আবেদন ফরম: https://forms.gle/p9ZvVivX35GsaeoAA, ওয়েবসাইট ভিজিট করুন: www.muktisamachar.com, ​ই-মেইল: dailymuktisamachar@gmail.com, ​সরাসরি যোগাযোগ: (মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ): (প্রকাশক)- ​📞 +৮৮০১৮২৮-৭৯২৭৫৫, (সম্পাদক)- 📞 +৮৮০ ৯৬৩৮-৭৫১৮১০, ​প্রধান কার্যালয়: ইস্টার্ন হাউজিং, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬ ।।। ​যে-কোনো সংবাদ, বিজ্ঞাপন বা তথ্যের জন্য আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন ।৷ ​”দুই মাসেই সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে—প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।”

পাম্পে ‘তেল নেই’, গুদামে হাজার লিটার! কৃত্রিম সংকটে ভোগান্তিতে মানুষ

Reporter Name

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, বিশেষ প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেন ও পেট্রোলের সংকটের অভিযোগে সাধারণ মানুষ যখন ভোগান্তিতে পড়ছেন, ঠিক তখনই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন-দেশে জ্বালানি সংকটের চেয়ে বড় সংকট এখন সততা ও নৈতিকতার।
ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, অনেক ফিলিং স্টেশনে গিয়ে “অকটেন নেই” বা “তেল শেষ” এমন কথা শুনে ফিরে যেতে হচ্ছে। কিন্তু একই স্টেশনের ভেতরে বা গোপন সংরক্ষণাগারে হাজার হাজার লিটার তেল মজুত থাকার ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা এখন যেন এক ধরনের নতুন কৌশলে পরিণত হয়েছে। চাহিদা বেশি দেখিয়ে সরবরাহ সীমিত রাখার মাধ্যমে দাম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা-এমন অভিযোগ বহুদিনের। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ:
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে তেল গোপন করে রেখে বাজারে সংকটের আবহ তৈরি করেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়েন, তেমনি পরিবহন খাতেও অস্থিরতা তৈরি হয়।
একজন ভোক্তার ভাষায়, “পাম্পে গিয়ে বলা হয় তেল নেই, কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখা যায় অন্য গাড়িতে তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে মনে হয় কোথাও না কোথাও গোপন মজুত আছে।”
এই ধরনের পরিস্থিতি শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি বাজার ব্যবস্থাপনার প্রতি মানুষের আস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান:
কিছু স্থানে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে গোপনে মজুত রাখা তেল উদ্ধার করেছে। অভিযানে কয়েকজনকে জরিমানা ও কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে—এই অনিয়মের পেছনে কারা রয়েছে এবং পুরো নেটওয়ার্কটি কতটা বিস্তৃত।
অনেকেই মনে করছেন, শুধু মাঠপর্যায়ে কয়েকজন কর্মচারীকে শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংকট কি তেলের, নাকি নৈতিকতার?
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি না থাকলেও বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হলে সাধারণ মানুষকে তার মূল্য দিতে হয়।
তাদের মতে, সমস্যা তেলের অভাব নয়; বরং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মুনাফার মানসিকতা।

জনমনে প্রশ্ন:
এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে—
ফিলিং স্টেশনগুলোতে গোপনে তেল মজুত রাখার সুযোগ কেন থাকে?
তদারকি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?
কৃত্রিম সংকট তৈরির পেছনে বড় কোনো চক্র কাজ করছে কি না?

কঠোর নজরদারির দাবি:
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ও সচেতন মহল বলছে, জ্বালানি খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এখানে নিয়মিত নজরদারি, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না থাকলে এমন ঘটনা বন্ধ করা কঠিন।
তাদের মতে, বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে শুধু জ্বালানি নয়, অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রেও কৃত্রিম সংকটের প্রবণতা কমবে।

শেষ কথা:
জ্বালানি তেলের এই গোপন মজুতের ঘটনা অনেককে মনে করিয়ে দিচ্ছে-দেশে হয়তো জ্বালানি সংকট নেই, কিন্তু নৈতিকতার সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। আর এই সংকট দূর করতে শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন কঠোর জবাবদিহিতা ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি আর তেলের দাম কমিয়ে দিলেই সিন্ডিকেট সমস্যা সমাধানের পথ উন্মুক্ত হয়ে যাবে।

লেখক : প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের
সাংবাদিক, কলামিস্ট, বিশ্লেষক, কবি ও উপন্যাসিক



ফেসবুকে আমরা