মোঃ রাসেল শেখ,নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।
খুলনা-নড়াইল জেলার সীমান্তবর্তী এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে আলোচিত গাজীরহাট বাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি ও মাদক প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল ( ২আগষ্ট) বিকেলে গাজীরহাট বাজারে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আল-মামুন শিকদার। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল৯৩-১ আসনের সংসদ সদস্য জনাব জননেতা বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।
এ সময় বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক, খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম, নড়াইল জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) রবিন হালদার, দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হাওলাদার সানোয়ার হোসেন মাসুম এবং কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইদ্রিস আলী।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কালিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক স. ম. ওয়াহিদুজ্জামান মিলু, দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুর রহমান মিন্টু, কালিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ সেলিম হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গাজীরহাট বাজারে কোনো সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের স্থান হবে না। ব্যবসায়ীরা যেন নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বাজারে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।” তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তথ্য সংগ্রহের জন্য বাজারে একটি অভিযোগ বক্স স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া সীমান্তবর্তী গাজীরহাট ও হামিদপুর ইউনিয়নের যুবসমাজের মধ্যে সম্প্রীতি বাড়াতে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীরহাট বাজারে দ্রুত একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সকলকে মারামারি, হিংসা-বিদ্বেষ, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বাজারে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের ঘোষণাকে স্বাগত জানান। তাঁদের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গাজীরহাট এলাকায় দীর্ঘদিনের মাদক সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ আরও স্বাভাবিক হবে।