September 25, 2026, 9:38 pm
শিরোনাম:
নবীনগরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু চকরিয়া পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নতুন কমিটি, সভাপতি রনধীর দাশ, সম্পাদক সুনীল পায়ে হেঁটে হজে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না সিংড়ার দুলাল হোসেনের হালিশহরে শাণে গাওসে পাক (র:) ও জামে আউলিয়াকেরামের পথ পুনরুদ্ধার ও সালাতুসালাম সম্মেলন। ৭১ টিভি’র সাংবাদিক পাপুল সরকারকে লাঞ্চিত করার ঘটনায় গাইবান্ধা সাংবাদিক সমাজের নিন্দা ও প্রতিবাদ। ঢাকা প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে অনিয়মের অভিযোগ, কাজী ফরিদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি রাউজানে বিদ্যার্থী বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ অনুষ্ঠিত নওগাঁর মান্দা নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের তথ্য-অর্থদাতা,ছেলে কিশোর গ্যাং সদস্য অভিযোগে গ্রেপ্তার বেলাবোতে ছায়ান গ্রামে প্রবাসী ও যুব মানবিক ফাউন্ডেশনের শুভ উদ্বোধন শাহজাহান খোকনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন
নোটিশ:
দৈনিক মুক্তি সমাচার ও ডিএমএস টিভি (DMS TV) ​”সত্যের সন্ধানে দৃষ্টি — ডি.এম.এস.” এবং ইনসানিয়াত লাইফ ব্লাড ফাউন্ডেশন ​”মানবতার সেবায় রক্তদান, বাঁচবে অকাল প্রাণ” (একটি অরাজনৈতিক ও সম্পূর্ণ মানবিক সংগঠন) ​পরিচালনা পর্ষদ: ​ইঞ্জিনিয়ার- মোঃ আল-আমিন মোল্যা, সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা- সভাপতি ।।। ​মোঃ মাসুদ রানা সুমন, প্রকাশক ও প্রতিষ্ঠাতা- সাধারণ সম্পাদক ।।। ​মোঃ আব্দুর রহিম সবুজ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা- সিনিয়র সহ সভাপতি ।।। কর্তৃপক্ষ’র নোটিশ ব্যতীত কোনো ধরনের লেনদেন করবেন না; যদি করেন- কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেনা । ​যোগাযোগের তথ্য ও লিঙ্কসমূহ: ​অনলাইন আবেদন ফরম: https://forms.gle/p9ZvVivX35GsaeoAA, ওয়েবসাইট ভিজিট করুন: www.muktisamachar.com, ​ই-মেইল: dailymuktisamachar@gmail.com, ​সরাসরি যোগাযোগ: (মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ): (প্রকাশক)- ​📞 +৮৮০১৮২৮-৭৯২৭৫৫, (সম্পাদক)- 📞 +৮৮০ ৯৬৩৮-৭৫১৮১০, ​প্রধান কার্যালয়: ইস্টার্ন হাউজিং, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬ ।।। ​যে-কোনো সংবাদ, বিজ্ঞাপন বা তথ্যের জন্য আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন ।৷ ​”দুই মাসেই সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে—প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।”

চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গুর মধ্যে আবারও বাড়ছে হাম, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকট

Reporter Name

মোঃ মিনারুল ইসলাম,চুুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি ২৫/০৯/২০২৬ শুক্রবার

 

ডেঙ্গুর আতঙ্কের মধ্যেই চুয়াডাঙ্গায় আবারও বাড়তে শুরু করেছে হাম। হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমের টিকা প্রত্যাশিতভাবে কার্যকর না হওয়ায় শিশুদের মধ্যে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আক্রান্ত শিশুদের অনেকেই প্রথমে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে।

 

এতে করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তৈরি হয়েছে তীব্র শয্যা সংকট। ২২ শয্যার ওয়ার্ডটিতে বর্তমানে বিভিন্ন সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি রয়েছে ১৩০ শিশু।

 

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৪শে সেপ্টেম্বর) হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২০ শিশু। প্রতিদিন গড়ে আরও চার থেকে পাঁচজন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপের পাশাপাশি জনবল সংকটে চিকিৎসক ও নার্সদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

অন্যদিকে হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ময়লা-আবর্জনা ও মশার উপদ্রব নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা। তাদের আশঙ্কা, হামের চিকিৎসা নিতে এসে শিশুরা আবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারে।

 

চুয়াডাঙ্গায় হামে আক্রান্ত হয়ে প্রথম শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি আরও ৫ জন। চুয়াডাঙ্গায় শিশুর মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তি : হামে নয়, অন্য কারণে মৃত্যু হতে পারে : সিভিল সার্জন

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলায় হামে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৭১২ শিশু হাম নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আটজন রোগী ভর্তি রয়েছে। শিশু ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যার বিপরীতে রোগীর সংখ্যা শতাধিক হওয়ায় অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় রেখেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

শুক্রবার (২৫শে সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে নির্ধারিত বেডগুলোতে জায়গা না থাকায় মেঝে ও বারান্দাতেও শিশুদের রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোনো শিশু হামে আক্রান্ত, কেউ নিউমোনিয়ায়, আবার কেউ ঠাণ্ডা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দিনের পর দিন হাসপাতালে অবস্থান করছে।

একই সঙ্গে ওয়ার্ডের চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ময়লা-আবর্জনা নিয়ে রোগীর স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। তাদের আশঙ্কা, বিভিন্ন সংক্রমণে আক্রান্ত শিশুদের ভিড়ের মধ্যে হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকলে রোগের বিস্তার আরও বাড়তে পারে। এর সঙ্গে মশার উপদ্রব থাকায় হামের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।

রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামে আক্রান্ত অনেক শিশুর ক্ষেত্রেই প্রথমে ঠাণ্ডা-জ্বর ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়। পরে শরীরে হামের লক্ষণ এবং লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

হাম আক্রান্ত ছয় বছর বয়সী মোছাঃ ইন্তিয়া খাতুনের মা মোছাঃ রাবেয়া আক্তার বলেন, হামের শুরুতেই টিকা দিয়েছিলাম মেয়েকে। তারপর কয়েকমাস পর হামের উপসর্গ দেখা যাওয়ার পর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসছি। এখন চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসা ভালো পেলেও বেড না থাকায় মেঝেতে অবস্থান করতে হয়েছে। এতে জীবাণু তৈরি হচ্ছে।

আরেক হাম আক্রান্ত শিশুর মা মোছাঃ পলি খাতুন বলেন, প্রথমে আমার বাচ্চা মেয়ের ঠাণ্ডা জ্বর আসে। এরপর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। তারপর আবার দেখি হামের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। এখন সারা শরীরে হামের লালচে ফুসকুড়ি বেড় হয়েছে। তারপর থেকেই তিন দিন ধরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখনো সুস্থ না।

রোগীর স্বজন মোঃ কামাল হোসেন বলেন, আমার নাতি ছেলের ঠাণ্ডা কাশির পর নিউমোনিয়া। তারপর শুরু হলো হাম। নিয়মিতভাবে হাসপাতালে ডাক্তার দেখছে এবং চিকিৎসা দিচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালের পরিবেশ খুবই নোংরা। চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ভর্তি। এর মধ্যে আবার বেড নেই। মেঝে-বারান্দায় বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

 

 

আরেক রোগীর স্বজন মোছাঃ জাহানারা খাতুন বলেন, শিশু ওয়ার্ডের চারপাশে অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন। এতে মশার উপদ্রব বাড়ছে। ফলে এই হামের মধ্যে ডেঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

 

 

চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল জেলায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয় এবং তা ১০ মে পর্যন্ত চলে। জেলার চারটি উপজেলা ও চারটি পৌর এলাকার আটটি স্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ৯৮০টি কেন্দ্রে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম নেওয়া হয়। ওই ক্যাম্পেইনে জেলায় ১ লাখ ৩০৫ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়।

 

 

অন্যদিকে অতিরিক্ত রোগীর চাপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর কাজের চাপ। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স বেবি আক্তার বলেন, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগী বেশি। মাত্র দুইটা নার্স দিয়ে ঠেকানো অসম্ভব অবস্থা। এর মধ্যেও রোগীসেবা অব্যাহত রেখেছি। এই কম লোকবল দিয়ে চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি।

 

 

তবে টিকা নেওয়ার পরও শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা দেখা যাচ্ছে। ছয় বছর বয়সী মোছাঃ ইন্তিয়া খাতুনও হাম-রুবেলার টিকা নিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, টিকা দেওয়ার পর হামের প্রকোপ কম ছিল।

 

 

গতবার হামের টিকা দেওয়ায় সেই টিকা খুব একটা কার্যকর হয়নি। যার কারণে ছোট ও বড়দের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। মাঝে কম ছিল, আবার বাড়তে শুরু করেছে হাম। তবে আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। নিয়মিত চিকিৎসা নিলে হাম থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।



ফেসবুকে আমরা