আজিজুর ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
১৫ই জুলাই ২৬-চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালটি এখন নিজেই যেন ‘অসুস্থ’। চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা প্রদানে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। সাধারণ রোগীদের জন্য এই হাসপাতালটি বর্তমানে শেষ ভরসাস্থল হলেও, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব এবং শূন্য পদের আধিক্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই প্রতিষ্ঠানে মোট ৮৫টি চিকিৎসক পদের অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৮ জন। অর্থাৎ, অর্ধেকেরও বেশি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। এই জনবল সংকটের প্রভাব পড়ছে হাসপাতালের প্রতিদিনের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মেডিসিন, সার্জারি ও শিশু বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চরম সংকট রয়েছে। এতে করে গুরুতর অসুস্থ রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জটিল রোগীদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ। ফলে, রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা অন্য জেলার হাসপাতালে ছুটছেন, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায় না। এছাড়া রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের সংকটও যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ সময় ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত রোগীদের ওপর নজরদারি করার মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় তারা অবহেলার শিকার হচ্ছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই হাসপাতালটি জেলার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র বড় কেন্দ্র। চিকিৎসক সংকট নিরসনে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। হাসপাতালটির চিকিৎসা মান পুনরুদ্ধার এবং চিকিৎসকের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা না গেলে এই জনপদ স্বাস্থ্যসেবায় আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই সংকট সমাধানে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কি কোনো দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে আপনার মনে হয় ?