সুবর্ণ বিশ্বাস, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি।
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে একটি আবাসিক মাদ্রাসার দুই কোমলমতি ছাত্রকে যৌন নিপীড়ন ও বলৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসাটির প্রধান শিক্ষক আবুল বাশারকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও বিভিন্ন ওষুধ জব্দ করা হয়। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
স্থানীয় ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার স্থানীয় একটি আবাসিক মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক মেসে থাকা কোমলমতি ছাত্রদের ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি দুই ছাত্রকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে বলৎকার করেন তিনি। বিষয়টি কাউকে জানালে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী দুই শিশু ঘটনাটি তাদের অভিভাবকদের জানায়। বিষয়টি জানাজানি হলে আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা ও অভিভাবকরা মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবুল বাশারকে অবরুদ্ধ করে গণধোলাই দেয়।
সংবাদ পেয়ে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। আটককালে তার কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও ওষুধ উদ্ধার করে পুলিশ।
কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। তার কাছ থেকে বেশ কিছু নিষিদ্ধ ও যৌন উত্তেজক ওষুধ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।