সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২২কে ঘিরে সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া, হুমকি ও রেশন কার্ড আটকে রাখার অভিযোগ’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্যাম্পটির হেড মাঝি রফিকুল ইসলাম ও ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি)। তারা দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট সংবাদটিএকপাক্ষিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে এবং সংবাদ প্রকাশের আগে তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়নি।হেড মাঝি রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আলোচিত ঘটনাটি প্রায় দুই বছর আগের একটি পারিবারিক বিরোধ। তার দাবি, মোহাম্মদ হোসাইনের এক ছেলে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে দালাল চক্রের মাধ্যমে মিয়ানমারে যান। পরে তাকে ফিরিয়ে আনতে মোহাম্মদ হোসাইনের দ্বিতীয় ছেলের স্ত্রী তার বোনের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার এনে শ্বশুরকে দেন। পরবর্তীতে সেই টাকা ফেরত চাইলে মোহাম্মদ হোসাইন তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং একাধিকবার ঝগড়া-বিবাদ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।
তিনি বলেন, মোহাম্মদ হোসাইনের দ্বিতীয় ছেলের স্ত্রী তার কাছে বিচার চাইলে তিনি একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি)-এর কাছে উপস্থাপনের পরামর্শ দেন। পরে সিআইসি কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এক লাখ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা মওকুফ করে অবশিষ্ট ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় এবং উভয় পক্ষই তা মেনে নেয় বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে মোহাম্মদ হোসাইনের দ্বিতীয় ছেলের স্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বিচার অনুযায়ী নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা চাইলে তাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্নভাবে হয়রানি ও মারধর করে। এমনকি তাকে তালাক দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে তিনি বিষয়টি পুনরায় সিআইসি কার্যালয়ে অবহিত করেন।
এ বিষয়ে ক্যাম্প-২২-এর সিআইসি সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার শুনানি ও তদন্ত করা হয়। তদন্তে এটি পারিবারিক বিরোধ বলে প্রতীয়মান হয়। বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এক লাখ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা মওকুফ করে অবশিষ্ট ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়া এবং দ্বিতীয় ছেলের স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়ায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে সংশ্লিষ্ট পরিবারের রেশন কার্ড স্থগিত রাখা হয়। এছাড়া মোহাম্মদ হোসাইনের পরিবারের বিরুদ্ধে ক্যাম্পের বিভিন্ন বাসিন্দার একাধিক লিখিত অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে মাদক, অস্ত্র এবং ক্যাম্পের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার বিষয়ও রয়েছে বলে তিনি জানান। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ক্যাম্পের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে পরিবারটিকে অন্যত্র স্থানান্তরের (রি-লোকেশন) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
হেড মাঝি রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকাশিত সংবাদে তার ও সিআইসি কার্যালয়ের বক্তব্য উপস্থাপন না করায় প্রকৃত ঘটনা আড়ালে থেকে গেছে এবং তার সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।