সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে আমের বিপ্লব: কুয়েত প্রবাসীর বাগানে ঝুলছে হিমসাগর-ফজলি
Daily Mukti Samachar - দৈনিক মুক্তি সমাচার: জুন ১৯, ২০২৬
মো. রফিকুল ইসলাম সোহাগ, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৩নং ধনপুর ইউনিয়নের চিনাকান্দি গ্রামে পতিত জমিকে উর্বর করে গড়ে তোলা হয়েছে বাণিজ্যিক আম বাগান, যা এখন নজর কাড়ছে সবার। কুয়েত ফেরত প্রবাসী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান মিরাশ মিয়ার গড়ে তোলা এই দুটি আম বাগানে শোভা পাচ্ছে হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রপালি ও আশিনাসহ নানা জাতের সুস্বাদু আম। ২০১৩ সালে রাজশাহীতে এক বন্ধুর বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশে ফিরে এসে নিজ পৈতৃক ৪ একর পতিত জমিতে তিনি ৪ শতাধিক আমের চারা রোপণ করেন। বর্তমানে বাগানগুলোতে ফরমালিনমুক্ত আমের বাম্পার ফলনে লাভের মুখ দেখছেন এই উদ্যোক্তা। স্থানীয় পর্যায়ে এমন উদ্যোগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা। বাগানে কাজ করা শ্রমিকরা জানান, আম বাগান কেন্দ্রিক এই কর্মসংস্থানের ফলে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছেন। সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে এমন বাগান থাকায় প্রতিদিন সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ছুটে আসছেন আম ক্রেতারা। বাগান মালিক মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান মিরাশ জানান, চলতি বছর ১৭০ মণ আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে তিনি ইতোমধ্যে প্রায় দুই লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন। স্থানীয় ৩নং ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিলন মিয়া বলেন, ‘এই জেলায় এমন আম বাগান বিরল। সরকারিভাবে কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে এই বাগান থেকে উৎপাদিত আম দিয়ে জেলার চাহিদা অনেকাংশেই মেটানো সম্ভব।’ কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে আগামীতে উৎপাদনের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উদ্যোক্তা মিরাশ। হাওর অধ্যুষিত এই জেলায় এখন আমের মৌসুমে অন্যরকম এক আমেজ তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষিতে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। যোগাযোগ: ইস্টার্ন হাউজিং (আলুবদী রোড), পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬।

