নবীনগরে গোলাগুলি ও যুবক অপহৃত, এলাকায় আতঙ্ক, নিখোঁজ রিফাতের সন্ধান দাবি

Daily Mukti Samachar - দৈনিক মুক্তি সমাচার: জুন ১৬, ২০২৬

নবীনগরে গোলাগুলি ও যুবক অপহৃত, এলাকায় আতঙ্ক, নিখোঁজ রিফাতের সন্ধান দাবিসাধন সাহা জয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি     ​ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল দাসপাড়া এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রিফাত নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দুর্বৃত্তরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে সলিমগঞ্জের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ‘মনেক ডাকাত’ ও তার সহযোগীরা অতর্কিতে রিফাতের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দুর্বৃত্তরা রিফাতকে জোরপূর্বক একটি যানবাহনে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই রিফাতের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। গুলিবিদ্ধ রিফাত থোল্লাকান্দি গ্রামের মৃত মোস্তাক আহমেদের ছেলে। ​নিখোঁজ রিফাতের স্বজন শাহাদাত হোসেন সোহাগ জানান, দীর্ঘদিন ধরেই মনেক ডাকাতের সঙ্গে রিফাতের বিরোধ চলছিল। মনেকের অত্যাচারের ভয়ে রিফাত দীর্ঘসময় এলাকাছাড়া ছিলেন। গত রোববার তিনি বাড়িতে ফিরলে সোমবার রাতে এই হামলা ও অপহরণের ঘটনা ঘটে। শাহাদাত হোসেন বলেন, “রিফাত এখন জীবিত না মৃত—তা আমরা জানি না। আমরা অবিলম্বে রিফাতের উদ্ধার এবং মনেক ডাকাতকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।” ​এদিকে, রিফাতের মা-বাবাসহ স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। রাতের সেই গুলির শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একজন গুলিবিদ্ধ মানুষের এমন রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়া এবং এলাকায় অস্ত্রধারীদের দাপটে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কিত। ​এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গোলাগুলির বিষয়টি সত্য। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং অপহরণের প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ​ওসি আরও বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। পুলিশ মাঠে কাজ করছে, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ​নিখোঁজ রিফাতকে দ্রুত উদ্ধারে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

যোগাযোগ: ইস্টার্ন হাউজিং (আলুবদী রোড), পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬।