টিন কেটে ঘরে প্রবেশ, তারপর ধর্ষণ! নোয়াখালীতে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

Daily Mukti Samachar - দৈনিক মুক্তি সমাচার: জুন ১৪, ২০২৬

টিন কেটে ঘরে প্রবেশ, তারপর ধর্ষণ! নোয়াখালীতে চাঞ্চল্যকর অভিযোগপ্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, বিশেষ প্রতিবেদক:   নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বসতঘরের টিন কেটে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে (৩০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রোববার (১৪ জুন) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম। এর আগে শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের চরবালুয়া পুলিশ ক্যাম্পে অভিযুক্তকে হস্তান্তর করা হয়। ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, তিনি দুই সন্তানের জননী। তার স্বামী জীবিকার তাগিদে কুমিল্লায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার রাতে তিনি সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে একা ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে একই গ্রামের আলমগীর সওদাগরের পালক ছেলে তারেক ঘরের দরজার পাশের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমে সে ঘরে টাকা-পয়সা ও মালামাল খোঁজাখুঁজি করে। পরে কিছু না পেয়ে চলে যাওয়ার সময় গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর শনিবার সন্ধ্যায় একাধিক মামলার আসামি শাহীন ও তার সহযোগীরা অভিযুক্ত তারেককে আটক করে মারধর করে। একপর্যায়ে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলে তাকে রাত ১০টার দিকে চরবালুয়া পুলিশ ক্যাম্পে সোপর্দ করা হয়। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, চরবালুয়া একটি দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল হওয়ায় সেখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী চক্রের প্রভাব রয়েছে। তাদের দাবি, এ ঘটনায় তারেক ছাড়াও আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শুধুমাত্র একজনকে আটক দেখানো হয়েছে। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী পরিবার এবং অভিযুক্ত যুবককে অন্য কারও নাম প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তারা ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য অভিযুক্তকে আটকের দাবি করা শাহীনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বলেন, “এ ধরনের একটি ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হবে। একজনকে আটক রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।” পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

যোগাযোগ: ইস্টার্ন হাউজিং (আলুবদী রোড), পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬।