সিলেটের কৃতি সন্তান চিত্রনায়ক সালমান শাহ বিচারের দাবি পর্ব -৩য়
Daily Mukti Samachar - দৈনিক মুক্তি সমাচার: নভেম্বর ৬, ২০২৫
মোঃ আব্দুর রব: সিলেট বিভাগঃ
সালমান শাহ এর মৃত্যু রহস্যের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
হাজারো জিজ্ঞাসার মুখোমুখি অবস্থায় সালমানের লা*শের পুণঃ ময়নাতদন্ত অনুষ্ঠান স্বপন্ন হবার পর-সবার দৃষ্টি এখন সেদিকে।
সলমান কি স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করেছে না তাকে সুপরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে
এর উত্তর পুনঃ ময়নাতদন্তে আনা যাবে বলে দর্শক ভক্তরা এর ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে আছে,
প্রথম ময়না ময়নাতদন্ত শেষে রিপোর্ট দেয়া হলে সেখানে বলা হয় শ্বাষরুদ্ধ জনিত কারনে সালমানের মৃত্যু হয়েছে। সে শ্বাষরুওটা কি সালমানের ফাঁস দেয়ার ফল নাকি তার গলায় কেউ কাপড় বা রশি পেঁচিয়ে শ্বাষরুদ্ধ করেছে সেটা ময়না তদন্তে সরাসরি উল্লেখ করেনি।
এ বিষয়টি বেশ রহস্যের সৃষ্টি করেছে।
যার কারনে সালমানের মা-বাবার মনে সন্দেহ ঘনিভূত হয়ে থ।কে। তাছাড়া তারা ছেলের মৃত্যুর পেছনে একটি শক্তিশালী মা'ফিয়া ডনের হাত আছে বলে সন্দেহ করছেন।
আর এই মা'ফিয়া ডনই কালো টাকার প্রভাবে সালমানের লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাল্টেও দিতে পারে।
এসব প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবিরের আবেদনের প্রেক্ষিতে মাননীয় আদালত দ্বিতীয় দফায় লাশের ময়না তদন্ত অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেন।
কারণ একটি রহস্যজনক মৃত্যুর পেছনে মূল বিষয় হলো পোস্টমর্টেম। কিংবা ডিসেয়া রিপোর্ট।
উক্ত রিপোর্ট পজেটিভ আসলে আর তদন্তকারী কর্মকতার কিছু করার থাকে না। এদেশে আশা এমন অনেক নজীর রয়েছে কোন লাশের প্রথম ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পজেটিভ আসে।
পরবর্তীতে পুণঃ ময়নাতদন্তে রিপোর্ট এসেছে নেগেটিভ। যার কারণে সালমানের প্রথম দফায় পোস্টমর্টেম রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করা হয়।
এতে মানুষের মন
থেকে বাকী দ্বিধাদ্বন্ধটা দূর হয়ে যাবে। সালমান শাহকে কবর দেয়া হয়েছে শাহজালাল (রাঃ) মাজার সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে। ১৪ সেপ্টেম্বর '৯৬ তারিখ প্রত্যুষেই বিশেষ প্রহরা ও ব্যবস্থাধীনে সালমানের লাশ তোলা হয়।
তখন সেখানে হাজার হাজার সালমান ভক্ত ভিড় করে। তাদেরকে সামলাতে পুলিশকে বিশেষ বেগ পোহাতে হয়।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ একটি মেডিকেল টিমের মাধ্যমে লাশের পুনঃ ময়নাতদন্ত করা হয়।
পুনঃ ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ আবার যথাযোগ্য মর্যাদার মাধ্যমে যথাস্থানে সমাহিত করা হয়।
এখানে উল্লেখ্য দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত করার জন্য ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ দল সিলেট পৌছান। ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ বিকেলে সালমানের বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী, মা নীলা চৌধুরী, ছোটভাই বিন্টুসহ আরো কতক আত্মীয় স্বজন বিমানযোগে ঢাকা থেকে সিলেট পৌছান।
সালমানের লাশ তোলার সময় সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়।
সালমানের বাবা-মা ভাইয়ের আহাজারিতে উপস্থিত সবাই চোখের জল ধরে
রাখতে হিমশিম খান। লাশ তুলে পুনঃ ময়নাতদন্ত করার ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
যাতে সঠিকভাবে ময়নাতদন্ত অনুষ্ঠান সম্পন্ন। করা যায় সেদিকে সবার দৃষ্টি রয়েছে।
এবার ময়নাতদন্তে সালমানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসুক সেটা সবার প্রত্যাশা।
এতদিন তার মৃতু। রহস্য নিয়ে জটের সৃষ্টি হয়েছে। সে জট খুলে যাবে বলে মনে হয়।
এবারের ময়নাতদন্ত শেষ করেই গোয়েন্দা পুলিশ নতুনভাবে তানের তদন্তকার্য শুক্ত করবেন যাতে উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত কেউই অতি সহজে পার পেয়ে না যেতে পারে। যার মাধ্যমে নতুন রহস্যের ইংগিত খুজে পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে সালমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ভিলেন ডন। গোয়েন্দা পুলিশের কাছে মুখ খুলেছেন।
ডন সরাসরিই বলে ফেলেছেন সালমানের সংসারে অশান্তির একমাত্র কারণ শাবনূর। শাবনূরের সামে সালমানের গত দু'বছর ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
তারা আউটডোরে শুটিং এ স্বামী স্ত্রীর মত চলাফেরা করতেন। এমন কি মাঝে মধ্যে দুজন উধাও হয়ে যেতেন।
এসব সামিরা জেনে ফেলে। সে সালমানকে শাবনূরের কাছ থেকে ছুটিয়ে আনার বহু চেষ্টা করে।
এজন্য তৃতীয় পক্ষ-এরগেছনে বেশ টাকা পয়সাও খরচ করে। তাই উক্ত ঘটনায় আত্মহত্যার কথা ছিল তো সামিরার সালমানের নয়।
ডনের এই বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে সালমান স্ত্রীর দৃষ্টিতে থেকেই শাবনূরের সাথে প্রেমালাপে জমে ওঠতেন। এট তার কাছে সহনীয় ব্যাপার হয়ে গিয়েছিল।
সালমানের মৃত্যুর পেছনে হয়তো অন্যকোন বড়। ধরণের কারণ রয়েছে তাই গোয়েন্দা পুলিশ নতুন রহস্যের ইংগিত নিয়েই তাদের তদন্তকার্য শুরু করবেন তা ছিল ১৯৯৬ সালের কথা |
২০২৫ সালে সকল বাধা পেরিয়ে সালমান শাহ কে হত্যা করা হয়েছে মর্ম বিজ্ঞ আদালতের নিকট প্রতি ওমান হয় | এরই ধারাবাহিকতায় চিত্রনায়ক সালমান শাহ কে হত্যা করা হয়েছে মর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু হয় | সিলেটবাসী সাবেক চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যার বিচার দ্রুত করার দাবি জানান | যোগাযোগ: ইস্টার্ন হাউজিং (আলুবদী রোড), পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬।

