বাগেরহাট প্রতিনিধি:
হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার দক্ষিণবঙ্গের শত শত যাত্রী দুর্দশা দেখার কেউ নেই। ইমা পরিবহনে ঢাকা, বাগেরহাট, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা রুটে প্রতিনিয়ত যাত্রী হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ইমা পরিবহন স্টাফদের কাছে সাধারণ যাত্রীদের সময়ের যেন কোন মূল্যই নেই। পথে যাত্রীদের সাথেই প্রায়ই এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা এ যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইমা পরিবহন গাড়ির স্টাফদের কাছে যাত্রী মূল্যহীন তাদের কাছে মালামাল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক ব্যবসা। গাড়ির ছাদ গাড়ির লকারে যাত্রীদের মালামালের চেয়ে অন্যান্য মালামালে পরিপূর্ণ থাকে। যাত্রীদেরকে বলা হয় আপনাদের মালামাল বাসের ভিতরে নিয়ে নিজ দায়িত্বে রাখেন। পথে পথে মালামাল নেয়ার জন্য অনেক বার থেমে থাকে। একবার মাছ, তো আর একবার সুপারি, একবার নারিকেল, পান, সবজি এভাবে চলতে থাকে তাদের মালামাল লোড আনলোড এর কার্যক্রম ।
এ সমস্ত মালামাল তুলতে গিয়ে দীর্ঘ সময় গাড়ি থেমে থাকে যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে চরম দুর্ভোগকে করতে হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরা তিক্ত বিরক্ত বিরক্ত হয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। এবং গন্তব্যে পৌঁছাইতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। লোকাল গাড়ির মতো ঘাটে ঘাটে,বিভিন্ন স্টেশন ও বাজারে ১০ থেকে মিনিট করে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ডাকতে থাকে। গাড়িতে পর্যাপ্ত যাত্রী থাকার পরও দাঁড়ানো অবস্থায় যাত্রী পরিবহন করে। এতে করে সাধারণ যাত্রীদের বিশেষ করে মহিলা যাত্রীরা হয়রানি এবং শ্রীলতা হানির সম্মুখীন হন।
এভাবে পথে পথে সময় নষ্ট করে গাড়িতে থাকা নিরীহ যাত্রীদের গন্তব্যে যেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। বিশেষ করে গভীর রাত্রে একজন মহিলা যাত্রী তার কর্তব্য স্থল অথবা বাসায় পৌঁছাতে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এবং প্রতিনিয়ত ছিনতাই এর কবলে পড়তে হয়। এদিকে পদ্মা ব্রিজ হওয়ার আগে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় ভালো পরিবহনে ঢাকা আসা যেত। কিন্তু বর্তমানে পদ্মা সেতু এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্বক উন্নতি হওয়া সত্ত্বেও যাত্রীদের সেবার মান ততটা উন্নত হয়নি বরং ভাড়া প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি বাড়িয়েছে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ দ্বিগুণের চেয়েও বাড়িয়ে দিয়েছে ইমা পরিবহনের কর্তৃপক্ষ। এবং কখনো যাত্রী সেবার মান এই পরিবহন কর্তৃপক্ষ উন্নতকরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেননি।
একই রুটে অন্যান্য পরিবহনের গাড়িতে সাধারণত ঢাকা যেতে ৪–৫ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা পৌঁছানো যায় । সেই একই রুটে ইমা পরিবহনে প্রায় ১১ ঘণ্টা সময় লেগেছে। দুপুর ২টার দিকে গাড়িতে উঠে রাত ১ টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। একজন বৃদ্ধ লোক, মহিলা যাত্রী কিংবা রোগী দুই টার সময় ঢাকা শহরে বাসায় যাওয়া অত্যান্তই ঝুঁকিপূর্ণ। ইমা পরিবহনের যাত্রী সেবার মান অত্যন্ত নিম্নমানের সেই সাথে বাসস্টাব্দের আচরণ ও ব্যবহার অসন্তজজনক। ইমা গাড়ি পরিবহন গাড়ি হলেও প্রকৃতপক্ষে মালামাল পরিবহনের কাজেই বেশি ব্যবহৃত হয়। এক কথায় এটা মালগাড়িই বলা যায়।
এছাড়া সিট ছাড়া লংরুটে লোকাল যাত্রী পরিবহন করে থাকে। এতে করে সিটে বসা যাত্রীদের ব্যাপক সমস্যা সম্মুখীন হতে হয়। এভাবে গাড়িতে নিয়মিত লোকাল প্যাসেঞ্জার দিনে রাতে পথে-ঘাটে ওঠানামা করলে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ও ডাকাতির কবলে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে রাত্রিবেলায় ডাকাতি ছিনতাই কবলে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। গাড়ির পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দেওয়ার পরেও তারা কোন কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না।
একজন যাত্রী টাকা দিয়ে টিকিট কেটে দ্রুত ও স্বাভাবিকভাবে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য। কিন্তু যাত্রাপথে পথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস দাঁড়িয়ে থাকায় কারনে বাস যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাইতে বিড়ম্বনা ও পথে-ঘাটে রাত বিরাতে ছিনতাই কাব্যকারী কবলে পড়তে হয়।
ইমা পরিবহনের কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হলেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। টিকিটে অভিযোগের নাম্বার দেওয়া থাকলেও অনেক সময় সেই নাম্বারে কেউ অভিযোগ জানালে ফোন বেজেই যাচ্ছে কেউ রিসিভ করে না। যাত্রীদের কাছ থেকে সঠিক ভাড়া নেওয়া সত্বেও যাত্রীসেবার মান অত্যন্ত হতাশা জনক।
তাই এ ব্যাপারে পরিবহন সেক্টর এর মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী মহোদয় ও দক্ষিণ বঙ্গের পরিবহন নেতৃবৃন্দের কাছে ঢাকা গামী ইমা যাত্রীদের দুর্দশা লাগব আশু ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছেন ।
ঢাকাগামি যাত্রীদের ও বিভিন্ন জরুরী রোগীদের সময়ের মূল্যের গুরুত্ব অনুধাবন করে ইমা পরিবহনের যাত্রী হয়রানি বন্ধে ইমা পরিবহনের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারি প্রশাসনের ও দক্ষিণবঙ্গের শ্রমিক নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী যাত্রীগণ।