সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ,
কক্সবাজারের উখিয়ায় সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তবে অপর অভিযানে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইয়াবার চালান ফেলে পালিয়ে যায়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর জীম্বংখালী বিওপির বিশেষ টহল দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শাকেরের ঘের এলাকায় অবস্থান নেয়।
রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে মিয়ানমার থেকে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় তারা হাতে থাকা একটি পোটলা ফেলে পাশের গ্রামে পালিয়ে যায়।
পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পোটলার ভেতর খাকী রঙের প্যাকেটের মধ্যে নীল রঙের বায়ুরোধী ৫ কাট থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও আর কোনো অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, একই রাতে উনচিপ্রাং বিওপির বিশেষ টহল দলও শাকেরের ঘের এলাকায় অভিযান চালায়। রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করলে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি ফাঁকা ফায়ার করে ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করে। আটক ব্যক্তি হলেন টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নাপমুরা পাড়া এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে মো. রাসেল (২০)। পরে তার বহন করা একটি পোটলা তল্লাশি করে খাকী রঙের প্যাকেটের ভেতর নীল রঙের বায়ুরোধী ১০ কাট থেকে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক রাসেল মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করছিল বলে স্বীকার করেছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক বলেন, মাদক সরবরাহকারী ও চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিজিবি সূত্র আরও জানায়, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সীমান্ত সুরক্ষা, মাদকদ্রব্য ও অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।