— ছায়েদ আহমেদ (Sayyed Ahmed)
রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও আদর্শিক বিতর্ক আমাদের সমাজে দীর্ঘদিনের একটি বাস্তবতা। কিন্তু যখন আদর্শিক লড়াইয়ে যুক্তি ও সততার পরিবর্তে অনমনীয়তা ও প্রতিশ্রুতিভঙ্গ স্থান পায়, তখন তা জনমনে গভীর হতাশার জন্ম দেয়। সম্প্রতি সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জের নিমাদলে শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক সাহেব এবং শায়খূল হাদীস মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈফি একটি বাহাসে অংশগ্রহণ করেন। সে সময় বাহাসে হেরে গিয়ে তাঁরা স্বয়ং স্বীকার করেছিলেন যে, মাওলানা মওদুদী (রহ.)-এর ওপর আনিত অভিযোগগুলো সঠিক নয় এবং তাঁরা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও তাঁরা বারবার সেই একই অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। একজন দায়িত্বশীল আলেমের কাছ থেকে এমন আচরণ দেখার পর তাঁদের আত্মমর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক। যখন কেউ প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করেন না, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাঁর বক্তব্যের আর কোনো গুরুত্ব থাকে না। সবচেয়ে বড় আফসোসের বিষয় হলো, আজ অবধি কেউ তাঁদের এতটুকু প্রশ্ন করল না যে, আপনারা কেন এমন করলেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েও কেন তা রাখলেন না?
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, আফতাব স্মরণিকা মামলার পর মাওলানা মওদুদীর বিরোধিতা করা এক ধরনের নির্লজ্জতা বৈ কিছু নয়। কিন্তু সত্যকে পাশ কাটিয়ে বয়োবৃদ্ধ বয়সে এসেও যদি কেউ নতুন করে কোনো মওদুদী বিরোধী মিথ্যা তোহমতনামা প্রকাশ করেন, তবে তা কেবল দুঃখজনকই নয়, বরং পরকালের আদালতে এর জবাবদিহিতা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। এ ধরনের অমূলক ও ভিত্তিহীন বিষয় নিয়ে অযথা লেখালেখি করাকে আমি সময়ের অপচয় মনে করি।
তবে এসবের বাইরে সবচেয়ে ইতিবাচক ও লক্ষণীয় দিক হলো, ক্বওমী মাদ্রাসার পাঠ্যতালিকা বা পাঠ্যবই হিসেবে "ফেরাকে বাতিলা" নামক তথাকথিত তোহমতনামা যুক্ত করার পর থেকে ক্বওমী অঙ্গনের তরুণ ও সচেতন সমাজ যেভাবে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন, তা বিগত কোনো কালেই দেখা যায়নি। আদর্শিক দমনপীড়ন বা বইয়ের পাতায় মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এই সত্যমুখী স্রোতকে রোধ করা সম্ভব নয়। সুতরাং, এই প্রাকৃতিক পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা কোনোভাবেই ঠিক হবে না।