
রিপন রায়,খুলনা বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি:
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ৭ ইউনিয়নে চলতি আমন মৌসুমে বীজতলা তৈরি শেষ করে চারা রোপণের লক্ষ্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা । উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে প্রায় ১৭ হাজার,৭ শত ২০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং উক্ত জমির জন্য ২০০ হেক্টর জমি বীজতলা তৈরিতে নির্ধারন করা হয়েছে । এর মধ্যে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাত ,১০০ হেক্টর জমিতে বারী ও ৬২০ হেক্টর জমিতে উপসী চাষের আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয় জাতের মধ্যে রয়েছে মোহিনী ছালট,রাণী ছালট,ভূটে ছালট,বাঁশফুল বালাম,কাঁচড়া,মরিশসাল,
কুমড়ী,রাঙ্গাকচ্চি,হেডমুমড়ী,ঘুনসী,বজ্জরমুড়ি,হোগলা পাতা,বাঁশমতি,চিনিকানাই, ইত্যাদি,বিরী ১০৩,৯৩,৯৪,৯৫ ও ৭৬ এবং বিআর ১০ ও বিআর ২৩ জাতের ধান চাষের আওতায় আনা হয়েছে । বটিয়াঘাটায় আমন মৌসুমে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে । বোরো মৌসুমে বটিয়াঘাটায় ৫৪ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এব্যাপারে চক্রাখালী গ্ৰামের কৃষক মৃনাল টিকাদার এ প্রতিবেদককে বলেন, সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে ঘটে যাওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে ভারী বর্ষণে এলাকায় জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
বর্ষা পূর্বে বীজতলা তৈরি প্রস্তুতি নিলেও হঠাৎ বিরামহীন ভারী বর্ষণে বীজতলা তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কৃষকদের । এছাড়াও এলাকার নদীনালা, খালবিল ভরাট হয়ে স্লুইসগেট গুলো অকেজো হয়ে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে । শুধু তাই নয় যেটুকু নদীনালা ও খালবিল রয়েছে তাও প্রভাবশালীরা দখলে রেখে কৃত্রিম জলবদ্ধতা সৃষ্টি করে কৃষি কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে । সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে কৃষি জমির পানি নিষ্কাশনে বিলম্বিত হওয়ার বীজতলা কিছু নষ্ট হয়েছে,যা পুনরায় নতুন করে কিছু বীজতলা তৈরি করতে হয়েছে ।
এব্যাপারে কৃষি অ অফিসের পক্ষ থেকে জলমা ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জীবনানন্দ রায় বলেন, পানি চাপে বীজতলা তৈরিতে কিছুটা বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সকল প্রতিকূলতাকে পিছনে ফেলে কৃষকরা চারা রোপণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে । এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বর্তমানে কৃষকরা বীজতলা থেকে চারা উঠায়ে ক্ষেতে রোপনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছে।
কৃষকদের সাহায্য করতে উপ- সহকারী কৃষি অফিসারা সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে। এছাড়াও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ,সার,ফলজ ও বনজ বৃক্ষের চারা সহ বিভিন্ন ধরনের কৃষি প্রোনোদনা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে । আগামীতে আবহাওয়া অনুকূল সহ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।