খোলাহাটী বাণিজ্য মেলা ঘিরে ফের বিতর্ক, বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ
বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার খোলাহাটী এলাকায় আয়োজিত বাণিজ্য মেলাকে ঘিরে আবারও নানা অভিযোগ ও উদ্বেগ সামনে এসেছে। গত বছরের মেলাকে কেন্দ্র করে ওঠা অনিয়ম, অবৈধ লটারির অভিযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির স্মৃতি এখনো কাটেনি বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, যথাযথ প্রশাসনিক তদারকি নিশ্চিত না হলে এবারও একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের মেলায় অবৈধ লটারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সহজে অর্থ লাভের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। লাভের আশায় অনেকেই একাধিক টিকিট কিনলেও শেষ পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক মানুষ কষ্টার্জিত অর্থ হারিয়ে হতাশায় পড়েছিলেন বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্য, এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়ায় এবারও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, গত বছরের মেলা চলাকালে সন্ধ্যার পর আশপাশের এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মারামারি, মাদকসেবীদের আনাগোনা এবং বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেক পরিবার প্রয়োজন ছাড়া রাতের বেলা বাইরে বের হওয়া সীমিত করে দিয়েছিল বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, মেলাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তাদের মতে, একটি বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু সেখানে যদি বারবার অনিয়ম, অবৈধ লটারি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে, তাহলে মেলার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এর ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়।
সচেতন নাগরিকদের মতে, একটি বাণিজ্য মেলা স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি বিনোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই মেলার শুরু থেকেই সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল, সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি এবং অবৈধ লটারি বা জুয়াসদৃশ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে যেকোনো অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের দাবি, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আয়োজকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অতীতের অভিযোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার একটি সুষ্ঠু, নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে মেলা আয়োজনেরও আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও মেলা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।