— মঈনউদ্দিন মনি, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা ইমাম হায়াত দেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষ করে কওমি ওহাবি ও মওদুদিবাদি মাদ্রাসাগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, বর্তমান মাদ্রাসাগুলোতে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা, ঈমানের দিশা এবং মানবতার কোনো চর্চা নেই। বরং এগুলো বিকৃত মানসিকতার মানুষ তৈরির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা ও নির্যাতনের অভিযোগ
আল্লামা ইমাম হায়াত অভিযোগ করেন, “মাদ্রাসাগুলোতে ভালো পড়াশোনা হয়—এই ধারণাটি ভ্রান্ত। সেখানে ইসলামের নামে যে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তা প্রকৃত ইসলামের ধারার বিপরীত। কওমি ওহাবি মাদ্রাসাগুলোতে প্রায়শই ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন, গণহারে বলাৎকার এবং ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এসব প্রতিষ্ঠানে রাজি না হলে শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়।” তিনি আরও দাবি করেন, মহিলা মাদ্রাসাগুলোতেও অনুরূপ ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে নারী শিক্ষার্থীদের।
প্রকৃত ইসলামের বিপরীত আদর্শের বিস্তার
আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, “এই মাদ্রাসাগুলো জ্ঞান, বিজ্ঞান ও মানবতার শিক্ষা থেকে বিচ্যুত। ইসলামের ছদ্মনামে ওহাবি, সালাফি ও মওদুদিবাদি আদর্শ প্রচারের মাধ্যমে মানুষের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন আলেম বের হওয়া সম্ভব নয়, যারা হক ও বাতিলের পার্থক্য বা ইসলামের রাজনৈতিক ও মানবিক দিক তুলে ধরতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, “এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যারা বের হচ্ছে, তারা প্রিয়নবী (সা.)-এর খেলাফতে ইনসানিয়াত বা অসাম্প্রদায়িক সর্বজনীন মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞ। বরং তাদের মধ্যে বস্তুগত জাতীয়তাবাদ ও উগ্রবাদী চেতনার বীজ বপন করা হচ্ছে।”
মাজার হামলা ও টিকার বিরোধী ফতোয়া
মাজার ভাঙচুর ও ধর্মস্থান দখলের সমালোচনা করে আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, “আউলিয়াদের মাজার ও বিভিন্ন ধর্মস্থানের ওপর হামলা সালাফি-ওহাবি-খারেজিদের নবী বিদ্বেষেরই বহিঃপ্রকাশ। এটি এজিদবাদেরই আধুনিক সংস্করণ।”
এছাড়া শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে টিকা বিরোধী ফতোয়া প্রদানকে তিনি ‘শিশু হত্যাকাণ্ডের’ শামিল বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “হামের টিকা নিষিদ্ধ করে হাজারো শিশুর জীবন নাশ করা হয়েছে। যারা ধর্মের নামে উগ্রবাদি ফতোয়া দিয়ে জনস্বাস্থ্য ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি।”
মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার আহ্বান
বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের মূল বার্তা তুলে ধরে আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, প্রতিটি নাগরিকের ঈমানী দায়িত্ব হলো মানবতার সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। তিনি সব মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার পক্ষে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক রাজনীতির আহ্বান জানান।
পরিশেষে তিনি বলেন, মাজারে হামলা ও সব ধর্মের পবিত্র স্থান রক্ষায় দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে, কারণ ওলি-আউলিয়াদের মাজার ও মানুষের নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
প্রতিবেদনটি আল্লামা ইমাম হায়াত, প্রতিষ্ঠাতা—বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও প্রবর্তক—বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব-এর প্রদত্ত বক্তব্যের আলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে।