ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি
সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মহৎ উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘হক ফাউন্ডেশন’। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি ওসমানীনগর উপজেলায় বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে আসছে।
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ২নং সাদিপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ গ্রামের কৃতি সন্তান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী শেখ মোঃ সাইদুল হক এই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি তাঁর প্রিয় পিতা শেখ মোঃ আব্দুল হকের নামে সংগঠনটির নামকরণ করেন।
শেখ মোঃ সাইদুল হক একজন সফল সংগঠক ও সমাজসেবী। তিনি জনপ্রিয় অনলাইন মিডিয়া “আমাদের টিভি”-এর পরিচালক, Osmani Nagar Upazila Online Press Club-এর আজীবন দাতা সদস্য এবং ওসমানীনগর উপজেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে, তাঁর পিতা শেখ মোঃ আব্দুল হক একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন প্রাচীন বিদ্যাপীঠ ‘বেগমপুর শরৎ সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়’সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি স্বেচ্ছাসেবীভাবে শিক্ষকতা করে কোনো বেতন-ভাতা গ্রহণ করেননি; বরং নিজের উপার্জিত অর্থ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ব্যয় করেছেন। পাশাপাশি তিনি সাবেক জনপ্রতিনিধি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ হিসেবেও এলাকায় পরিচিত। তাঁর আদর্শ, নৈতিকতা ও মানবসেবার চেতনাই ‘হক ফাউন্ডেশন’-এর মূল ভিত্তি।
বর্তমানে ফাউন্ডেশনটির সদস্য সংখ্যা ১৬ জন। ছোট পরিসরে শুরু হলেও এর কার্যক্রম ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।
‘হক ফাউন্ডেশন’ প্রতিবছর বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ ও নগদ সহায়তা প্রদান করে আসছে। এছাড়াও পবিত্র রমজান মাসে ইফতার মাহফিল আয়োজন এবং দুই ঈদে অসহায় মানুষের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করে থাকে।
এর পাশাপাশি কবরস্থান, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা প্রদান, শীত মৌসুমে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং প্রতিবছর মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি ও পুরস্কার বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজের প্রতিটি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, ‘হক ফাউন্ডেশন’ শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাদের নিরলস প্রচেষ্টা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মানবতার কল্যাণে এমন উদ্যোগ সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।