
সিলেট: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ২নং পশ্চিম জাফলং সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে বেপরোয়া চোরাচালান ও অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ‘শ্যাম কালা’ চক্র প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অপকর্ম চালিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্রের প্রধান শ্যাম কালা ওরফে কালা মিয়ার সহযোগী হিসেবে এলাকায় একাধিক সক্রিয় সিন্ডিকেট কাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের বিট অফিসার এসআই তানজিলকে ম্যানেজ করেই তারা এসব সীমান্ত অপরাধ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন সীমান্ত এলাকায় অপরাধের মাত্রা বাড়ছে, অন্যদিকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বৈধ ইজারা ছাড়াই দিনের পর দিন বালু উত্তোলন চললেও সংশ্লিষ্ট বিট অফিসারকে ম্যানেজ করে ফেলায় কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কে এই শ্যাম কালা?
অতীত বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাত্র এক দশক আগেও শ্যাম কালা ছিলেন একজন সাধারণ পাথর শ্রমিক। তার পিতা মোশাহিদ আলী পেশায় ছিলেন দিনমজুর। অভাবের সংসারে বড় হওয়া কালা মিয়ার দিন এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বারকী শ্রমিক থেকে তিনি এখন সিলেটের অন্যতম শীর্ষ চোরাকারবারি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। প্রতিদিন অবৈধ পথে আসা বিপুল অর্থের বিনিময়ে তিনি এখন গোয়াইনঘাটের অন্যতম প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।
পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে দ্বিতীয় কালা মিয়া অভাবের তাড়নায় পাথর শ্রমিকের কাজ শুরু করলেও দ্রুতই জড়িয়ে পড়েন চোরাচালান চক্রের সঙ্গে। বর্তমানে তিনি নিজে আড়ালে থেকে সহযোগীদের মাধ্যমে গোটা এলাকায় এক ‘রামরাজত্ব’ কায়েম করেছেন। বিগত ৫ বছরে তার সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এক সময়ের নুন আনতে পান্তা ফুরানো পরিবারটি এখন আলিশান জীবনযাপন করছে।
চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য:
অভিযোগ রয়েছে, চোরাচালানের মালামাল পরিবহনের পাশাপাশি কালা মিয়া নিজেই পুলিশের ‘লাইনম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার রয়েছে নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী ও বিশাল সিন্ডিকেট। এসআই তানজিলের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তিনি ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস, মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্য অবৈধ পথে আনা-নেওয়ার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে পশ্চিম জাফলংয়ের সোনারহাট সীমান্ত এলাকাকে এই সিন্ডিকেট চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং বিট অফিসার এসআই তানজিলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত শ্যাম কালা ওরফে কালা মিয়া তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি এখন এসব লাইনে (অপকর্মে) যুক্ত নেই।"
সীমান্তবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ও অপরাধ দমনে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।