মোঃ রাসেল শেখ, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
নড়াইলে ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু স্কুলছাত্র হুসাইনের সুতাকাটা ঘুড়ি খুঁজতে গিয়ে প্রাণ হারালো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী; শোকে স্তব্ধ পরিবার ও গ্রামবাসী। নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় সুতাকাটা ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ গেল এক স্কুলছাত্র শনিবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায় নিহত হুসাইন (১৩) কালিয়া উপজেলার নোয়াগ্রামের দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাবু শেখের ছেলে এবং স্থানীয় শাহবাগ ইউনাইটেড একাডেমির সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাবা তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরে এসেছেন
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে হুসাইন তার সমবয়সী কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির পাশের মাঠে ফুটবল খেলছিল খেলার একপর্যায়ে সে স্থানীয় একটি দোকান থেকে চকলেট ও কেক কিনে বাড়ির পাশের বিল এলাকায় ঘুড়ি ওড়াতে যায় কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই তার ঘুড়ির সুতা কেটে যায় এরপর ঘুড়িটি ধরার আশায় হুসাইন দ্রুত বিলের ভেতরের দিকে ছুটে যায় ।
এদিকে, ফুটবল খেলা শেষ হওয়ার পর হুসাইনের সঙ্গে থাকা আরও তিন বন্ধু বিলের দিকে শাপলা ফুল তুলতে যায় সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পায়, বিলের নরম ও কাদামাটির মধ্যে হুসাইন মাথা নিচের দিকে দিয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে এমন দৃশ্য দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করে এবং আশপাশের লোকজনকে খবর দেয় খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তারা হুসাইনকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে কালিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দিবাকর সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে হুসাইনের গলায় ঘুড়ির সুতা পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে তবে তার শরীরে দৃশ্যমান বড় ধরনের আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসীর ধারণা, বিকেলের নির্জন সময়ে বিলের মধ্যে যাওয়ার পর হুসাইন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হতে পারে কেউ কেউ নানা আশঙ্কার কথাও বলছেন তবে এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কালিয়া থানার ওসি ইদ্রিস আলী জানান, হুসাইনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি অভিযোগ পেলে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মাত্র সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী, শিক্ষক এবং নোয়াগ্রাম এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে যে শিশু কিছুক্ষণ আগেও বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলায় মেতে ছিল, তার নিথর দেহের সামনে এখন কান্নায় ভেঙে পড়েছে গ্রামের মানুষের একটাই প্রশ্ন- সুতাকাটা একটি ঘুড়ির পেছনে ছুটতে গিয়ে কীভাবে ঝরে গেল একটি সম্ভাবনাময় কিশোরের জীবন ?