আজিজুর ইসলাম, ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার:
এই সফল অভিযানে তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় ইসকাফ সিরাপ, ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রিতে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে পরিচালিত এই বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানটি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)-এর মাদকবিরোধী টিম, মতিহার থানা পুলিশ এবং ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ দলের নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়।
এই অভিযানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন আরএমপি-এর পুলিশ কমিশনার।
গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারিরা হলেন:
সাগর আলী (২৪), পিতা: মোজাম্মেল হক, সাং-সাতবাড়িয়া, থানা-মতিহার, রাজশাহী।
রাজিব আলী (২৫), পিতা: মোয়াজ্জেম আলী, সাং-সাতবাড়িয়া, থানা-মতিহার, রাজশাহী।
শিহাব আলী (২৩), পিতা: মৃত সাঈদ, সাং-সাতবাড়িয়া, থানা-মতিহার, রাজশাহী।
অভিযানের সময় আরও দুজন মাদক কারবারি পলাতক রয়ে গেছেন, তারা হলেন:
কামরুল ইসলাম (২৭), পিতা: মোজাহার আলী, সাং-চরসাতবাড়িয়া, থানা-মতিহার, রাজশাহী।
ইব্রাহিম আলী (২৬), পিতা: unknown, সাং-চরসাতবাড়িয়া, থানা-মতিহার, রাজশাহী।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে জাহাজঘাট-দাশমারী এলাকা থেকে প্রথমে সাগর আলীকে আটক করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চরসাতবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজিব আলী ও শিহাব আলীকে আটক করা হয়। এরপর গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক দুই আসামির বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু পুলিশি অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা আগেই পালিয়ে যান।
গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের দেহ তল্লাশি এবং পলাতক আসামিদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৪৯ বোতল ভারতীয় ইসকাফ সিরাপ এবং তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এই সফল অভিযানের পর আরএমপি-এর পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন যে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে মহানগরজুড়ে এই ধরনের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজের পথে এই সাঁড়াশি অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং জনসাধারণের সহযোগিতায় এই মাদকবিরোধী যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশ আশ্বস্ত করেছে।